প্রত্যক্ষদর্শী দুলাল চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সালিস বৈঠক শেষে চলে আসব—এমন সময় দুই পক্ষ ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের একজন দা দিয়ে ইউসুফ চৌকিদারের মাথায় কোপ দেন। এতে তাঁর মাথায় মারাত্মক জখম হয়।’

বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক নুসরাত জাহান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর মাথায় পাঁচ থেকে ছয় ইঞ্চি গভীরতার ক্ষত ছিল। মগজ বের হয়ে গিয়েছিল। এখানে  অক্সিজেন দেওয়ার কিছু সময় পরপরই তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশ ও সালিস বৈঠকে থাকা একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, আজ বিকেলে সাড়ে পাঁচটার দিকে সালিস বৈঠক শেষে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সালিস বৈঠকে আসা ব্যক্তিদের সামনে প্রতিপক্ষের এক তরুণ ইউসুফ চৌকিদারের মাথায় ধারালো দা দিয়ে কোপ দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাঁকে বামনা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহত ইউসুফ চৌকিদারের স্ত্রী নাসিমা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, জমি নিয়ে অনেক বছর ধরে হানিফ চৌকিদারের সঙ্গে তাঁদের বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন তাঁরা বিরোধ মেটানোর জন্য সালিস ডাকেন। সালিস বৈঠক শেষে তাঁর স্বামীর সঙ্গে প্রতিপক্ষের লোকজনের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ সময় প্রতিপক্ষ সোলেমান চৌকিদারের ছেলে রাহাত (২০) ধারালো রামদা দিয়ে তাঁর স্বামীর মাথার ডান পাশে কোপ দেন। এরপর হানিফ চৌকিদার (৬০), রিমন (২২), হাবিব মাস্টার (৫৮), রানী বেগম (৪০), মহারাজসহ (৪০) প্রতিপক্ষের আরও চার থেকে পাঁচজন তাঁর স্বামীকে মারধর করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে বামনা হাসপাতালে নিয়ে যান।

বামনা থানার পরিদর্শক বশিরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘটনাটি জানার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়েছি। নিহত ব্যক্তির পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে।’