ঝিনাইদহ সদর উপজেলার গাগান্না গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে আবুল কালাম আজাদ। তিনি বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য। কৃষিতে যুক্ত হয়ে গাগান্না গ্রামে গড়ে তুলেছেন কৃষি খামার। যেখানে মাল্টা, দার্জিলিং কমলা ছাড়াও নানা জাতের ফল চাষাবাদ করছেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন খেতে কাজ করছেন। আনিচুর রহমান, মোশারফ হোসেন, আতিয়ার রহমান নামের কয়েকজন খেত দেখছিলেন। সেখান কথা হয় কৃষক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর চাকরি শেষে বাড়ি ফিরে কৃষিকাজে নেমে পড়েন। আট বিঘা জমিতে খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। দুই বছর হলো সেখানে চাষাবাদ করছেন। ইতিমধ্যে মাল্টা, কমলা বিক্রিও করেছেন। প্রায় ২৬ লাখ টাকা খরচ করে শুরুতেই ফল বিক্রি করে পেয়েছেন ৬ লাখ টাকা। 

খামারি আবুল কালাম আজাদ জানান, বারি-১ জাতের মাল্টা বাজারে কম মূল্যে বিক্রি হয়। বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তবে মাল্টা ও কমলা চাষের মাঝামাঝি সময়ে তাঁদের এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন মফিজুর রহমান। তিনি মাল্টার রং ও স্বাদ পরিবর্তন করে বেশি দামে বিক্রির কৌশল শেখান। পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি গাছে বেঁধে দেন। কৃষি কর্মকর্তারা তাঁর খামারে এসে ফল পরীক্ষা করে দেখতে পান, ফলের স্বাদ ঠিক আছে, রসের পরিমাণও বেড়েছে। তা ছাড়া গাছের ফল প্যাকেটে থাকায় পচন ধরেনি, ফলগুলোও ভালো থাকছে।

উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মফিজুর রহমান বলেন, তিনি ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে আম ব্যাগে বেঁধে রঙের পরিবর্তন হওয়া দেখেছেন। সেখান থেকে ভেবেছেন, সবুজ মাল্টা শুধু রঙের কারণে কম মূল্যে বিক্রি হয়। অথচ স্বাদ-রস সবই ভালো থাকে। তখন কৃষক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে পরামর্শ করে এই পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। এ নিয়ে প্রথমে অনেকে ভয় দেখালেও এখন সবাই ভালো বলছেন।

আলাপচারিতায় আবুল কালাম আরও বলেন, তিনি বারি-১ জাতের ২৪০টি মাল্টাগাছে আসা সব ফলে কাগজের প্যাকেট বেঁধে দিয়েছেন। ইতিমধ্যে সাড়ে সাত হাজার ব্যাগ কিনেছেন। গাছে গাছে ব্যাগ ঝুলছে। প্রতিটি ব্যাগ সাড়ে চার টাকা দিয়ে ক্রয় করছেন। এগুলো ফল জড়িয়ে বেঁধে দিলেই হয়, আর কোনো কাজ নেই। পাঁচ থেকে ছয়টি মাল্টায় এক কেজি হয়। এতে এক কেজিতে ব্যাগের জন্য খরচ হচ্ছে প্রথম পর্যায়ে ২২ থেকে ২৬ টাকা। বাজারে এক কেজি মিসরীয় মাল্টা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর দেশীয় বারি-১ জাতের মাল্টা বিক্রি হয় ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। সেখানে রং পরিবর্তনের পর বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা। এতে কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা বেশি পাচ্ছেন। আবার এই ব্যাগ তিনবার ব্যবহার করতে পারছেন।

ঝিনাইদহ কৃষি বিভাগের উপপরিচালক মো. আজগর আলী বলেন, তাঁরা ওই কৃষককে সব রকম পরামর্শ দিচ্ছেন। নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষক লাভবান হচ্ছেন। তা ছাড়া কৃষিবিজ্ঞানীদের সঙ্গে এই রং পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেছেন, তাঁরাও এটাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। দেশে এটাই সম্ভবত প্রথম,  বিভিন্ন এলাকায় এই পদ্ধতি ছড়িয়ে পড়বে।