২০১৫ সালের ৬ আগস্ট সকালে বাড়ির সীমানা নিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় শরীফ খাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত শরীফ খাঁর স্ত্রী মাজেদা বেগম বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে আখাউড়া থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা গেছে, শরীফ খাঁর সঙ্গে বাড়ির সীমানা নিয়ে আমানত খাঁর পরিবারের বিরোধ চলে আসছিল। ২০১৫ সালের ৬ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে শরীফ খাঁর বাড়ির সীমানার ভেতরে ঢুকে কুড়াল দিয়ে একটি গাছ কেটে ফেলেন জাকির খাঁ। শরীফ খাঁ বিষয়টি দেখে আমানত খাঁর কাছে গাছ কাটার কারণ জানতে চান। এ সময় শরীফকে মারধর করার জন্য আমানত খাঁ তাঁর তিন ছেলেকে নির্দেশ দেন। পরে আমানত খাঁ তাঁর লোকজন নিয়ে শরীফ খাঁকে বেধড়ক মারধর ও কুপিয়ে জখম করেন। পরে গুরুতর আহত শরীফকে উদ্ধার করে প্রথমে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাঁকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। ঢাকায় নেওয়ার পথেই শরীফের মৃত্যু হয়।

ঘটনার দিন রাতেই জাকির, গাজী, মাহবুব, আমানত খাঁ ও আমির খাঁকে আসামি করে থানায় মামলা করেন নিহতের স্ত্রী মাজেদা। মামলার তদন্ত চলাকালে হত্যা মামলার ৫ নম্বর আসামি আমির খাঁ পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। আখাউড়া থানার উপপরিদর্শক আকরামুল হক ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল এ মামলায় তিন ভাই ও তাঁদের বাবাকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
নিহতের স্ত্রী মাজেদা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আদালতের রায়ে আমি সন্তুষ্ট। কারণ, আমানত আমার জীবন ও সংসারটা তছনছ করে দিয়েছে। তার জন্যই আমি আজ নিঃস্ব। বাকি তিন আসামির দুজন প্রবাসে ও একজন পলাতক রয়েছে। যত দিন পর্যন্ত এই আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হবে তত দিন পর্যন্ত আমি শান্তি পাব না।’

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি আজাদ রাকিব রহমান বলেন, হত্যা মামলায় তিন ভাইকে মৃত্যুদণ্ড ও তাঁদের বাবাকে যাবজ্জীবন করাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাঁদের প্রত্যেককেই ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত। যাবজ্জীবন দণ্ড পাওয়া আমানত খাঁকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ের সময় আমানত খাঁ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ পরাণ বলেন, ‘আদালতের রায়ে আমরা সংক্ষুদ্ধ। আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব। আর মৃত্যুদণ্ড পাওয়া তিন আসামি বর্তমানে প্রবাসে আছেন।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন