পদ্মা ও মেঘনা নদীর শাখা নদী জয়ন্তিয়া। মেঘনা নদীর গোসাইরহাটের কোদালপুর থেকে প্রবাহিত হয়ে ডামুড্যা উপজেলা সদরের ওপর দিয়ে ভেদরগঞ্জে পদ্মার শাখা নদীতে মিলিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) শরীয়তপুর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে ডামুড্যা উপজেলা সদরে দুটি, ২০০৫ সালে গোসাইরহাট উপজেলা সদরে একটি ও ২০১৪ সালে গোসাইরহাটের সাইক্কা এলাকায় একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। সেতুগুলো পানির স্তর থেকে ১৬-২০ ফুট উচ্চতায় নির্মাণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিএ) একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশের নদী চার শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে। প্রথম শ্রেণির নদীতে পানির স্তর থেকে ৬০ ফুট উচ্চতায় সেতু নির্মাণ করতে হবে, দ্বিতীয় শ্রেণির নদীতে ৪০ ফুট, তৃতীয় শ্রেণির নদীতে ২৫ ফুট এবং চতুর্থ শ্রেণির নদীতে ১৬ দশমিক ৫০ ফুট উচ্চতায় সেতু নির্মাণ করতে হবে। তা ছাড়া বিআইডব্লিউটিএর মরফোলজি বিভাগ থেকে নেভিগেশন ও ভার্টিক্যাল সনদ নিয়ে নদীর ওপর সেতু নির্মাণ করতে হবে। সেতু চারটির নিচ দিয়ে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করলেও তা কম উচ্চতায় নির্মাণ করা হয়েছে।

গোসাইরহাটের কুচাইপট্টির বাসিন্দা ও ঢাকা-গোসাইরহাট নৌপথের একটি লঞ্চের ব্যবস্থাপক জামাল মুনশি প্রথম আলোকে বলেন, সাইক্কা সেতুটি প্রথমে কম উচ্চতায় বানানো হচ্ছিল। স্থানীয় ব্যক্তিদের বাধার মুখে নকশা সংশোধন করে তা আরও তিন ফুট উচ্চতায় বানানো হয়। তারপরও জোয়ারের সময় তিনতলা লঞ্চ সেতুতে আটকে যায়। তাই জোয়ারের সময় লঞ্চগুলো সেতুর পাশে নোঙর করে রাখা হয়। নদীতে ভাটা শুরু হলে লঞ্চগুলো সেতুর নিচ দিয়ে চলাচল করে। কেউ অসতর্ক হলে দুর্ঘটনা ঘটে। গত ৫-৬ বছরে সাইক্কা ও পট্টি সেতুতে ১০-১২ দফা সেতুর সঙ্গে লঞ্চের ধাক্কা লেগেছে। তাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা-ডামুড্যা-গোসাইরহাট নৌপথের একটি লঞ্চের মাস্টার বলেন, ‘সেতুগুলো নিচু করে বানানোর কারণে লঞ্চ চালাতে কষ্ট হয়। বর্ষা মৌসুমে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি থাকে। নদীতে স্রোত ও পানি বেশি থাকলে লঞ্চের নিয়ন্ত্রণ রাখতে কষ্ট হয়।’

গোসাইরহাটের উপজেলা প্রকৌশলী দশরত দাস বলেন, জয়ন্তিয়া নদী তৃতীয় শ্রেণির। এ নদীতে সেতুর উচ্চতা থাকার কথা সাড়ে ৭ মিটার (২৫ ফুটের বেশি)। সম্ভবত সেতুগুলো নিচু। সেতু নির্মাণ করার সময় কোন মানদণ্ড অনুসরণ করে এবং কোন সমীক্ষার ভিত্তিতে উচ্চতা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা তিনি জানেন না। 

বিআইডব্লিউটিএর চাঁদপুর নৌবন্দরের বন্দর কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, নদীর শ্রেণিবিন্যাসের ওপর নির্ভর করে সেতুর উচ্চতা নির্ধারণ করা হয়। ডামুড্যা ও গোসাইরহাটের চারটি সেতু নির্মাণ করার সময় ক্লিয়ারেন্স নেওয়া হয়েছিল কি না, তা নথিপত্র যাচাই না করে বলা যাবে না।