ইমতিয়াজ ময়মনসিংহের সরকারি আনন্দ মোহন কলেজের স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থী। মূলত করোনার ভয়াবহতার সময় কলেজ বন্ধ থাকায় তিনি কমলা চাষ শুরু করেন। তিনি বলেন, করোনার কারণে অনেক মানুষের চাকরি চলে যাওয়ায় তাঁরা বেকার হয়ে পড়েন। ওই সব বেকার মানুষের উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা চলছিল তখন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘আমাদের দেশের একখণ্ড জমিও যেন অনাবাদি না থাকে।’ ওই সময় একদিন চা খেতে খেতে বাবার সঙ্গে গল্প করছিলেন তিনি। বাবা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা এ কে এম নুরুল ইসলাম ওই দিন ইমতিয়াজকে বলেছিলেন, একটা কমলার বাগান করা তাঁর স্বপ্ন। এর পর থেকে বাবার স্বপ্ন পূরণ করার জন্য মনে মনে উদ্যোগী হতে থাকেন তিনি। প্রথমে গুগলে বিভিন্ন দেশের কমলা চাষের পদ্ধতি ও কমলার বিভিন্ন জাত সম্পর্কে ধারণা নেন।

ইমতিয়াজ বলেন, অনলাইনে যোগাযোগ করে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় কমলা চাষ দেখতে যান তিনি। সেখান থেকে ফেরার সময় ১২৩টি কমলার চারা কিনে নিয়ে আসেন। এরপর ফিরে এসে নিজের গ্রামে ৪৫ শতক জমিতে বাগান করার প্রস্তুতি নেন। শ্রমিকদের পাশাপাশি নিজেও বাগানে খাটেন। চাষের শুরুতেই স্থানীয় লোকজন সমালোচনা করেন। অনেকে বলতে থাকেন, বাবার টাকা নষ্ট করা ছাড়া আর কিছু নয়। তবে তাঁদের সমালোচনায় দমে যাননি ইমতিয়াজ। নিজের শেখা সঠিক নিয়মে পরিচর্যা করে যান বাগানে। অবশেষে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাগানে ফুল ধরতে শুরু করে। এরপর কমলা ধরলেও তা স্বাভাবিক কমলার মতো হবে কি না অথবা খেতে সুস্বাদু হবে কি না, তা নিয়ে নিজের মধ্যে সংশয় ছিল। কমলা বড় হওয়ার পর সে সংশয় কেটে যায়।

ইমতিয়াজকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন বিএডিসি মুক্তাগাছা উপজেলার উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্রের উপপরিচালক আসিফ ইকবাল। আসিফ ইকবাল বলেন, ‘ফুলবাড়িয়ায় বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষ সম্ভব, সেটি দেখিয়েছেন ইমতিয়াজ।’