ইউএনওর ওপর হামলা
রিমান্ডে চেয়ারম্যান, বিষয়টি খতিয়ে দেখছে আ.লীগ
ইউএনওর ওপর হামলার ঘটনায় দুটি মামলা হওয়ার পর এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে গেছে।
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশিকুর রহমান চৌধুরীর ওপর হামলার ঘটনায় ডুমাইন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহ আসাদুজ্জামানের (৫০) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুরের ৫ নম্বর আমলি আদালতের জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মারুফ হাসান এ আদেশ দেন।
পাশাপাশি এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার অপর তিনজনের এক দিন করে রিমান্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন ডুমাইন ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহিম মৃধা (১৯), মো. প্রিন্স মোল্লা (৩২) ও কবিরুল বিশ্বাস (৪০)।
এদিকে, আওয়ামী লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আসাদুজ্জামানকে মামলায় প্রধান আসামি করা ও তাঁর রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি দলের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখার কথা জানানো হয়েছে। তাঁকে অন্যায়ভাবে এ মামলায় জড়ানো হলে প্রতিবাদসহ যাবতীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরবাড়ি নির্মাণ ও জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ইউএনওর দেহরক্ষী আনসার সদস্যের হাতে এক নারী রক্তাক্ত জখম হলে এলাকাবাসীর হামলায় ইউএনও, আনসার, পুলিশ, ৪ নারীসহ ১৫ জন আহত হন। হামলার সময় ইউএনওর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
এ ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। একটি মামলার বাদী ইউএনওর গালিচালক সুমন শেখ এবং অপর মামলার বাদী মধুখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রবীর কুমার সরকার। দুটি মামলাতেই ১ নম্বর আসামি করা হয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মাদ আসাদুজ্জামানকে। পুলিশ তাঁকেসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
তবে বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারের আগে আসাদুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ঘটনার সময় তিনি ওই জায়গায় ছিলেন না। ইউএনও সেখানে আসবেন, সে কথাও তাঁকে আগে থেকে জানানো হয়নি। আহত হওয়ার পর ইউএনওর ফোন পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং উত্তেজিত নারী-পুরুষদের হাতে পায়ে ধরে ‘বাবারা, ‘মায়েরা’ বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হক বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আওয়ামী লীগ নেতা, তিনি একজন জনপ্রতিনিধি। ঘটনার কোনো প্রেক্ষাপটে তাঁকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার জন্য গত রোববার ছয় সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ। তদন্ত কমিটির পাশাপাশি তিনিসহ ১০ থেকে ১২ জন নেতা গতকাল ঘটনাস্থলে গিয়ে এ ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করেন। এ ঘটনায় কার কতটুকু সংশ্লিষ্টতা আছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। যদি তাঁরা প্রমাণ পান, এ ব্যাপারে আসাদুজ্জামানের সংশ্লিষ্টতা আছে, তাহলে কোনো কথা নেই। তবে যদি দেখেন, তাঁকে অন্যায়ভাবে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে, তাহলে এ ব্যাপারে প্রতিবাদসহ যাবতীয় পদক্ষেপ নেবে উপজেলা আওয়ামী লীগ।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক বলেন, ‘এ ঘটনায় যাঁরা প্রকৃতপক্ষে জড়িত, তাঁদের শাস্তির দাবি আমরা করেছি। কিন্তু অন্যায়ভাবে কাউকে জড়াতে দেওয়া হবে না। ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামানকে দুটি মামলার ১ নম্বর আসামি করা, আদালত থেকে তাঁর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়াসহ সব বিষয় নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব।’