‘সভ্য সমাজে বিচারের বাণী নীরবে কাঁদতে পারে না’

ত্বকী হত্যার ১৬১ মাস উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের আলোক প্রজ্জ্বালন কর্মসূচি। শনিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারেছবি: প্রথম আলো

ত্বকী হত্যার সাড়ে ১৩ বছরেও অভিযোগপত্র না দেওয়াকে বিচারব্যবস্থার দেউলিয়াপনার উদাহরণ হিসেবে মন্তব্য করেছেন ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা জোর করে সাড়ে ১১ বছর ত্বকী হত্যার বিচার বন্ধ করে রেখেছিলেন। তাঁর বিদায়ের দুই বছর পরও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। সরকার বদলালেও বিচারব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন হয়নি। একটা সভ্য সমাজে বিচারের বাণী নীরবে–নিভৃতে কাঁদতে পারে না।

শনিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ত্বকী হত্যার ১৬১ মাস উপলক্ষে আয়োজিত মোমশিখা প্রজ্বালন কর্মসূচিতে রফিউর রাব্বি এ কথা বলেন।

ত্বকী হত্যার পর থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট প্রতি মাসের ৮ তারিখে ধারাবাহিকভাবে মোমশিখা প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করে আসছে।

সংগঠনের সভাপতি মনি সুপান্থর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দিনা তাজরীনের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের সদস্যসচিব হালিম আজাদ, দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, শিশুসংগঠক রথীন চক্রবর্তী, ন্যাপের জেলা সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, বাসদের জেলা সদস্যসচিব আবু নাইম খান, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাবেক সভাপতি ভবানী শংকর রায়, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা ও গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়ক অঞ্জন দাস।

রফিউর রাব্বি বলেন, হত্যার এক বছরের মাথায় তদন্ত সংস্থা র্যাব তদন্ত শেষ করার দাবি করলেও আজও সে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হলো না। এর মধ্যে দুটি সরকারের বদল হয়েছে অথচ তদন্ত শেষ হলো না। সরকার বদলালেও বিচারব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য কোনো বদল এখনো হয়নি। চব্বিশের অভ্যুত্থানে ছাত্ররা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে রাস্তায় নেমেছিল, ন্যায়বিচার চেয়েছিল; কিন্তু সে ন্যায়বিচার এখনো প্রতিষ্ঠা পায়নি। রফিউর রাব্বি বলেন, ‘আমরা ত্বকী, সাগর-রুনি, তনুসহ সব হত্যার বিচার চাই। চব্বিশের অভ্যুত্থানে জীবন দেওয়া সব শহীদের হত্যার বিচার চাই। একটা সভ্য সমাজে বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদতে পারে না।’

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নগরের শায়েস্তা খাঁ সড়কের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী। এর দু্ই দিন পর শীতলক্ষ্যা নদীর কুমুদিনী খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২০১৪ সালের ৫ মার্চ তদন্তকারী সংস্থা র্যাব সংবাদ সম্মেলনে জানায়, নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারের নির্দেশে তাদের টর্চার সেলে ১১ জন মিলে ত্বকীকে হত্যা করেছে। অচিরেই তারা অভিযোগপত্র আদালতে পেশ করবে; কিন্তু সে অভিযোগপত্র এখনো আদালতে পেশ করা হয়নি।