ধানের শীষের প্রচারণায় গিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা বললেন, ‘আমাদের একটা ছাতা দরকার’
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে নেমেছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতা। প্রচারণায় গিয়ে মানুষকে বলছেন, ‘আমাদের একটা ছাতা দরকার।’ ইতিমধ্যে তাঁর প্রচারণার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
আওয়ামী লীগের ওই নেতার নাম সুনন্দন দাস (রতন)। তিনি গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহপ্রচার সম্পাদক। গোদাগাড়ীর প্রেমতলী গ্রামে তাঁর বাড়ি। গতকাল মঙ্গলবার সাব্বির রহমান নামের নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের এক কর্মী ৫৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করেন, যাতে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের বিএনপির প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীনের পক্ষে ওই নেতাকে ভোট চাইতে দেখা যায়।
যোগাযোগ করলে সুনন্দন দাস জানান, ভিডিওটি গোদাগাড়ীর মোহনপুর ইউনিয়নে প্রচারণার সময়। তিন-চার দিন আগে প্রচারণার সময় কেউ ভিডিওটি করেছিলেন। নিয়মিতই ধানের শীষের প্রচারণা করছেন কি না জানতে চাইলে বলেন, ‘যাচ্ছি, মাঝে মাঝেই যাচ্ছি যখন সুযোগ হয়।’
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিনজন ব্যক্তিকে সুনন্দন দাস বলছেন, ‘এবারকার নির্বাচনটা দলমত–নির্বিশেষে আমাদের ধানের শীষেই, শরীফ সাহেবকে দিতে হবে। তাই না? সে জন্যই আমরা গোটা গোদাগাড়ী উপজেলায় আদিবাসী সম্প্রদায়ের ভেতরে যোগাযোগ করছি। ঠিক আছে? আমাদের একটা ছাতা দরকার। এবার শরীফ সাহেবকেই যেন সবাই ভোট দেয়।’
বিষয়টি অন্যদেরও জানিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘সবাইকে বলে দেবেন, সবাই ভোট দেবে। ঠিক আছে? আমরা সেই পথেই আগাচ্ছিলাম। শরীফ সাহেব জিতলে আমাদের একটা আশ্রয়ের দরকার। আমাদের তো এখন ছাতার দরকার। ঠিক আছে? এটা বলার জন্যই এসেছি। আপনারা সবাইকে বলে দেবেন পাড়ায় পাড়ায়।’
ভিডিওটি ফেসবুকে দিয়ে ছাত্রলীগের কর্মী সাব্বির লিখেছেন, ‘১৭ বছর আওয়ামী লীগের পোস্ট ব্যবহার করে, আওয়ামী লীগ থেকে সুবিধা নিয়ে আজ বিএনপির জন্য ভোট চাচ্ছে নিজ স্বার্থের জন্য। এই রতন দাস আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। সুদিনে আবার আওয়ামী লীগের বড় নেতার চামচামি করে হয়তো গোদাগাড়ীতে রাজনীতি করার সুযোগ খুঁজবে। তাই আগে থেকে সাবধান হয়ে যান।’
সুনন্দন দাস কাস্টমসের একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। চাকরিজীবনে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর নজরে আসার পর দলে পদ পান। ফারুক চৌধুরী তাঁকে শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ দেব ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যও করেন। ২০২৪ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন।
নানা অভিযোগে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি সুনন্দন দাসকে খেতুরী ধামের ওই ট্রাস্টি বোর্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। গত বছরের জুন মাসে অভিযোগ ওঠে, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব বিশ্বনাথ সরকার এই আওয়ামী লীগ নেতার প্রাইভেট কারে চড়ছেন। তখন সিসি ক্যামেরার একটি ফুটেজও সামনে এসেছিল।
ধানের শীষের প্রচারণায় নামতে কেউ নির্দেশনা দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে সুনন্দন দাস বলেন, অনেকেই করছেন, তাই তিনিও করছেন। তিনি অনুরোধ করেন এটা নিয়ে তাঁকে যেন বিপদে ফেলা না হয়।