পাবনায় পাখিপ্রেমীর বদৌলতে প্রকৃতিতে ফিরল আটটি পাতিসরালি

ভ্রাম্যমাণ মুরগি বিক্রেতার কাছ উদ্ধার করা পাতি সরালি পাখিগুলো পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বুধবার বিকেলেছবি: হাসান মাহমুদ

এক মুরগি বিক্রেতা আটটি পাতিসরালি পাখি নিয়ে ঘুরছিলেন শহরে। ইচ্ছা ছিল, উচ্চ মূল্যে বিক্রি করবেন। এর মধ্যে বিষয়টি নজরে পড়ে একজন পাখিপ্রেমীর। তিনি বিক্রেতাকে সামলাতে না পেরে আড়াই হাজার টাকায় পাখিগুলো কিনে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেন।

বুধবার দুপুরে পাবনা জেলা শহরের সোনাপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পাখিগুলো পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পাখিগুলোর কয়েকটি মুক্ত লেকে খেলতে শুরু করে। কয়েকটি আবার উড়ে যায় আকাশে।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেলা একটার দিকে মুরগির সঙ্গে আটটি পাতিসরালি পাখি নিয়ে ঘুরছিলেন এক বিক্রেতা। সোনাপট্টি এলাকায় গেলে বিষয়টি নজরে পড়ে নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিউনিটির সভাপতি এহসান আলী বিশ্বাসের। পাখিগুলো তখনো ব্যাগের মধ্যে বন্দী ছিল। এহসান বিশ্বাস বিষয়টি দেখে বিক্রেতাকে পাখিগুলো ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু বিক্রেতা কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না। পরে তিনি আড়াই হাজার টাকায় পাখিগুলো কিনে নেন। দুর্বল হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে পাখিগুলো নিয়ে বেলা তিনটার দিকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের লেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ সময় নেচার অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিউনিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান মাহমুদ, পাবনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ফারুক আহম্মেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক নাজমুল ইসলাম বলেন, শীতের শুরুতেই পাবনার বিল ও নদী অঞ্চলে প্রচুর পাখির আনাগোনা বাড়ে। এ সুযোগে একশ্রেণির অসাধু পাখিশিকারি প্রতিদিন পাখি শিকার করে প্রকাশ্যে বিক্রি করছে। এটা খুবই দুঃখজনক।

মো. ফারুক আহম্মেদ বলেন, পাখিগুলো বেশ দুর্বল ছিল। বাইরে ছেড়ে দিলে আবার শিকারির কবলে পড়তে পারত। তাই তাঁরা পাখিগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকে ছেড়েছেন। পাখিগুলো খোলা পরিবেশ ও লেকের পানি পেয়ে সুস্থ হয়ে উঠছে।

এহসান আলী বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমরা পাখি শিকার বন্ধের দাবি জানাই। সেই সঙ্গে প্রশাসনসহ সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান করছি।’