রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনার্থী–যানবাহন প্রবেশ নিষিদ্ধ, বিকেলে ছাত্রশিবির–ছাত্রদলের বিক্ষোভ
ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দর্শনার্থীসহ সব ধরনের যানবাহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৪ আগস্ট থেকে ক্যাম্পাসে অতিথি বা দর্শনার্থী, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, প্রাইভেট কারসহ সব ধরনের যানবাহন প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। ক্যাম্পাসের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা–কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে গতকাল সোমবার রাতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. ফেরদৌস রহমান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত। বিকেলে শিবির–ছাত্রদলের বিক্ষোভের বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা ব্যবস্থা নেবে। ক্যাম্পাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আজ থেকে ক্যাম্পাসে অতিথি বা দর্শনার্থী, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, প্রাইভেট কারসহ সব ধরনের যানবাহন প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।’
এদিকে আজ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আবু সাঈদ চত্বরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে রংপুর মহানগর ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল। পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ডাক দেওয়ায় ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
রংপুর মহানগর ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক সামছুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রশিবিরের কর্মসূচিতে ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এবং গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে তাঁরা মঙ্গলবার (আজ) বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে বিক্ষোভ কর্মসূচি ও সমাবেশের ডাক দিয়েছেন। শহরের লালবাগ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তাঁরা আবু সাঈদ চত্বরে যাবেন।
অন্যদিকে আজ বিকেল চারটার দিকে রংপুর মহানগর ছাত্রদলের নেতৃত্বে আবু সাঈদ চত্বরে বিক্ষোভ করার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন।
ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সে জন্য পুলিশ তৎপর আছে বলে প্রথম আলোকে জানিয়েছেন রংপুর মহানগরের তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম।