রংপুর মেডিকেলে হাম উপসর্গ নিয়ে প্রথম শিশুর মৃত্যু, অসহযোগিতার অভিযোগ

রংপুরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের আইসোলেশন কক্ষে রেখে হাম উপসর্গে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শনিবার সকালেছবি: প্রথম আলো

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ওই শিশুর মৃত্যু হয়। রমেক হাসপাতালে গত এক মাসে এই প্রথম হাম উপসর্গ নিয়ে শিশুর মৃত্যু হলো। শিশুটির চিকিৎসায় কর্মরত নার্স ও ওয়ার্ড বয় অসহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ তার মায়ের।

মারা যাওয়া শিশু তানজিদের বয়স সাত মাস। সে লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের আনন্দবাজার এলাকার রিয়াজুল ইসলামের ছেলে।
রমেকের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আয়েশা সুলতানা প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘শিশুটি লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ১২ থেকে ১৪ দিন ভর্তি ছিল। তারপর র‍্যাশ হওয়ার পরে ১৫ এপ্রিল আমাদের এখানে পাঠিয়েছিল। প্রথম থেকে শিশুটির পরিস্থিতি খুব খারাপ ছিল।’

শিশুটির মা তিথি মনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঈদের দুই দিন পর লালমনিরহাট হাসপাতালে নিউমোনিয়া আশঙ্কা করে চিকিৎসা দিছিল। তারপর বাচ্চা একটু সুস্থ হয়, বাসায় নিয়ে আসি। আবার অসুস্থ হয়। এ রকম করে দুই-তিনবার ভর্তি করেছি। পরে পয়লা বৈশাখের দিন নিয়ে গেছি। ওখানে শিশু ডাক্তার আসেনি। পরে আমার বাচ্চা খুব অসুস্থ হয়েছে, ওখানে অক্সিজেন দিয়ে পরদিন রংপুরে নিয়ে আসি। রংপুরের বেসরকারি কমিউনিটি মেডিকেলে ভর্তি করলে তারা হাম আক্রান্তের কথা বলে রংপুর মেডিকেলে পাঠিয়ে দেয়।’

তিথি মনি জানান, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু তানজিদকে প্রথমে হাম কর্নারে রাখা হয়েছিল। পরে একজন চিকিৎসক বলেন, ওর হাম হয়নি। তখন সাধারণ শিশু ওয়ার্ডে রাখা হয়। অক্সিজেন সরবরাহসহ তানজিদের চিকিৎসায় কর্মরত নার্স ও

ওয়ার্ড বয়ের অসহযোগিতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিথি মনি।
এ বিষয়ে শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান আয়েশা সুলতানা প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিষয়টি আমার কানেও এসেছে। আজ (শনিবার) সকালে পরিচালক স্যারের রুমে গিয়েছিলাম এ নিয়ে কথা বলতে। তিনি নার্স ইনচার্জ ও ওয়ার্ড মাস্টারকে ডেকে নতুন করে রোস্টার করতে বলেছেন।’

হাসপাতালের প্রশাসন সূত্র জানায়, আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত রমেকে মোট ২২টি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাম কর্নারে ভর্তি আছে। ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৭ শিশু। একই সময়ে ছাড়া পেয়েছে চার শিশু।

হাম উপসর্গ নিয়ে রমেকে ভর্তি থাকা শিশুদের মধ্যে রংপুরের ৯টি, কুড়িগ্রামের ৪, নীলমারীর ৪ এবং লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও গাইবান্ধার ১টি করে শিশু আছে। এর মধ্যে ১৬ জনের বয়স ৫ থেকে ১০ মাস। ৬ জনের বয়স দেড় বছর থেকে সাড়ে ৩ বছর।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের সময়ে গত ২৩ মার্চ রংপুর মেডিকেল কলেজে হাম উপসর্গ নিয়ে প্রথম রোগী ভর্তি করা হয়। ২৯ মার্চ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের পাশে ১০ শয্যার একটি হাম কর্নার করে এসব শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। রোগীর সংখ্যা বাড়ায় পরবর্তী সময় আরও একটি হাম কর্নার করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়ে মোট ৭৭টি শিশু চিকিৎসা নিয়েছে।