গতকাল শুক্রবার বিকেলে ফকিরহাট উপজেলার শুভদিয়া ইউনিয়নের ঘনশ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬টি বস্তায় মোট ৩৭৭টি কচ্ছপ উদ্ধার হয়। এর মধ্যে জীবিত উদ্ধার হয় ৩৫১টি। বাকি ২৬টি ছিল মৃত। প্রজাতিভেদে ৩৬৩টি সুন্ধি কচ্ছপ, ৬টি ধুম কচ্ছপ, ৬টি কড়ি কাইট্টা কচ্ছপ ও ২টি হলদে কাইট্টা কচ্ছপ। র‍্যাবের দাবি, কচ্ছপগুলো দেশের বাইরে পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল।

কচ্ছপগুলো বাংলাদেশের ২০১২ সালের বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনের তফসিল-১ (হুমকির মুখে থাকা) অনুযায়ী সংরক্ষিত। র‍্যাব-৬, ফকিরহাট উপজেলা প্রশাসন ও বন অধিদপ্তর খুলনার বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের যৌথ অভিযানে কচ্ছপগুলো উদ্ধার হয়।

অভিযানে মাদারীপুরের মো. মনিরুজ্জামান (৩৮), বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার মো. আরিফুল ইসলাম (৩৭) ও ফকিরহাট উপজেলায় দিলিপ রায়কে (৩৫) আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনে তাঁদের ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে আজ কারাগারে পাঠানো হয়।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল প্রথম আলোকে বলেন, উদ্ধারের আগেই বস্তার মধ্যে ২৪টি সুন্ধি ও ২টি ধুম কচ্ছপ মারা যায়। জীবিত ৩৫১টি কচ্ছপ আজ প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়েছে। কচ্ছপগুলো তেরখাদা উপজেলার ভৈরব নদ, আঠারোবাকি নদ, চিত্রা ও চিত্রা নদীর ত্রিমোহনায় অবমুক্ত করা হয়েছে। দুটি হলদে কাইট্টা পাহাড়ি এলাকায় ছাড়া হবে।

বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা তন্ময় আচার্য প্রথম আলোকে বলেন, একসময় বাংলাদেশের নদ-নদী, খাল-বিল ও পুকুরে কচ্ছপগুলো পাওয়া যেত। নির্বিচারে শিকার, আবাসস্থল ধ্বংসসহ নানা কারণে এখন প্রকৃতিতে সেভাবে কচ্ছপগুলো দেখা যায় না। খাল-বিল, পুকুর, জলাশয় কমে যাওয়ায় দিন দিন কচ্ছপের আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে আসছে। প্রকৃতিতে প্রতিনিয়ত কচ্ছপের সংখ্যা কমছে। বন্য প্রাণী আইন অনুযায়ী প্রকৃতিতে হুমকির মুখে থাকা কচ্ছপ ধরা, মারা, কেনাবেচা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।