কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে (ভৈরব-কুলিয়ারচর) ১১–দলীয় জোট প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা আতাউল্লাহ আমীনের বাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ সোমবার বিকেলে ভৈরব পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ওই প্রার্থীর সমর্থকদের অভিযোগ, এ হামলার পেছনে বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকেরা দায়ী। ভোটের আগে ভীতি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে।
এ ঘটনার পর ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুনুর রশীদের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
আতাউল্লাহ আমীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব। এবারের নির্বাচনে তিনি রিকশা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে আসনটিতে ধানের শীষ প্রতীকে লড়ছেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ অঞ্চল) শরিফুল আলম।
হামলার বিষয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ভৈরব শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সকাল থেকে প্রার্থীকে (আতাউল্লাহ আমীন) নিয়ে আমরা গণসংযোগে ছিলাম। তাঁর বাড়ির পাশে আমানত ইসলামী স্কুল। এটি ওই প্রার্থীর পরিবারের সদস্যরা পরিচালনা করেন। ট্রাস্টি বোর্ডের অর্থায়নে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে কম্বল বিতরণ করা হয়। এগুলো কিছু সেখানে রয়ে যায়। আজ বেলা আড়াইটার দিকে আতাউল্লাহ আমীনের বাড়ির সামনে থেকে কিছু মহিলা তাঁর পক্ষে মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় যুবদলের কয়েকজনের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে তাঁরা আমাদের প্রার্থীর বোন ও ভগ্নিপতির গায়ে হাত তোলেন। পরে পুলিশ ও সেনাসদস্যরা সেখানে আসার পর হামলাকারী স্থান ত্যাগ করে।’
বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের পক্ষ থেকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, আতাউল্লাহ আমীনের বাড়ি থেকে ভোটারদের বোরকা, টাকা ও কম্বল দেওয়া হচ্ছিল। এর মাধ্যমে ভোটারদের রিকশা প্রতীকের পক্ষে ভোট দিতে প্ররোচিত করা হয়। পরে এলাকার সাধারণ মানুষ সেখানে গিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এর একপর্যায়ে অনেকে বোরকা, টাকা ও কম্বল ফেলে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
ভৈরব উপজেলা বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সত্য নয়। ভোটের সম্প্রীতি নষ্ট করার জন্য রিকশা প্রতীকের লোকজন বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন বলে জানিয়েছেন ভৈরব উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ভোটের আগে কোনো প্রার্থীর বাড়ি থেকে কাউকে নগদ অর্থ, বোরকা ও কম্বল দেওয়া আচরণবিধির লঙ্ঘনের শামিল। অথচ রিকশার প্রার্থীর বাড়ির লোকজন তাই করছিলেন।
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে ইউএনও বলেন, ‘রিকশা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আবার বিএনপির প্রার্থীর পক্ষ থেকে বোরকা, টাকা ও কম্বল বিতরণের মৌখিক অভিযোগও পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’