ভালুকায় বাবা–ছেলের দ্বন্দ্বের জেরে গুলি, আসামি বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ এমপি প্রার্থীসহ ৩৭

মামলাপ্রতীকী ছবি

ময়মনসিংহের ভালুকায় ‘বাবাকে লক্ষ্য করে ছেলের গুলির’ ঘটনায় বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ সংসদ সদস্য (এমপি) প্রার্থীসহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মোহাম্মদ খোকা মিয়া নামের এক ব্যক্তি থানায় মামলাটি করেন।

মামলায় খোকা মিয়া নিজের ছেলে তোফায়েল আহমেদকে ১ নম্বর আসামি করেছেন। আর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমকে করেছেন ৫ নম্বর আসামি।

১২ এপ্রিল ওই গুলির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র জানায়, সেদিন ব্যক্তিগত কার্যালয় খুলেছিলেন খোকা মিয়ার ছেলে তোফায়েল আহমেদ। তখন বাবা লোকজন নিয়ে গিয়ে ছেলেকে কার্যালয় বন্ধ করতে বলেন। তখন বাবাকে লক্ষ্য করে গুলি করার অভিযোগ ওঠে ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছয়টি গুলিভর্তি ম্যাগাজিন, একটি গুলি ও একটি গুলির খোসা উদ্ধার করে।

মামলায় বাদী খোকা মিয়া উল্লেখ করেন, কয়েক দিন আগে বিবাদীরা সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে এলাকার সাধারণ জনগণের জমি দখলের চেষ্টা করলে তিনিসহ এলাকার লোকজন বাধা দেন। তখন বিবাদীরা হত্যার হুমকি দেন। এ ঘটনার জেরে ১২ এপ্রিল হামলা করে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখর উদ্দিন আহমেদ। অন্যদিকে দলীয় মনোনয়ন না উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে তিনি হেরে যান। পরে তাঁকে বহিষ্কার করে বিএনপি। নির্বাচন চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষ হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভালুকা উপজেলার অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান হবিরবাড়ি এলাকায়। এলাকাটিতে মোর্শেদ আলমের বাড়ি। সে কারণে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ঝুট ব্যবসা ছিল তাঁর নিয়ন্ত্রণে। নির্বাচনের পর সংসদ সদস্যের সমর্থকেরা ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ নিতে চেষ্টা করে। এ নিয়ে সংসদ সদস্যের সমর্থক ও মোর্শেদ আলমের সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব লেগে আছে।

গত নির্বাচনে খোকা মিয়া ধানের শীষের প্রার্থী ফখর উদ্দিন আহমেদের সমর্থক ছিলেন। তাঁর ছেলে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন মোর্শেদ আলমের পক্ষে। এদিকে ১৪ এপ্রিল বিভিন্ন অভিযোগে ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খোকা মিয়া ও তাঁর ছেলে বিএনপির কর্মী তোফায়েল আহমেদকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

স্থানীয় লোকজন জানান, নির্বাচনের আগে এলাকার একটি কারখানার সঙ্গে ব্যবসা করতেন তোফায়েল আহমেদ। কিন্তু নির্বাচনের পর ওই ব্যবসা চলে যায় বাবা খোকা মিয়ার নিয়ন্ত্রণে।

মোর্শেদ আলম বলেন, ‘আমি ২৫ বছর ধরে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায় জড়িত ছিলাম। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সব মিলের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমপির লোকজন সব নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলোতে মালামাল সরবরাহ ও বের করতে দিচ্ছে না। উল্টো মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে।’

তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কোনো জায়গায় কাউকে আমার নাম ভাঙাতে বলিনি। আমি বলেছি, কোনো জায়গায় কেউ আমার নাম ভাঙালে তাকে আইনের আওতায় দেওয়া হবে।’

ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, বাবা-ছেলের মধ্যকার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। তিনি বলেন, এলাকার আধিপত্য ও ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ঝামেলাগুলো হচ্ছে।