ডুয়েটে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশের মামলায় আসামি ২৫০, ব্লকেড কর্মসূচি চলছে

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) ব্লকেড কর্মসূচি চলছে। আজ মঙ্গলবার সকালেছবি: প্রথম আলো

নতুন উপাচার্যের (ভিসি) নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, সরকারি কাজে বাধা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা করেছে পুলিশ। গাজীপুর সদর থানায় করা এ মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

আজ মঙ্গলবার নতুন কোনো কর্মসূচি ঘোষণা না দিলেও শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত ব্লকেড কর্মসূচি অব্যাহত আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলছে। তবে ছোট গেট দিয়ে জরুরি প্রয়োজনে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যাতায়াত করতে পারছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, গত বৃহস্পতিবার সরকার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপর শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এর বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামে। এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে সক্রিয় নেতা-কর্মীদের দেখা যায়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতা ভিন্ন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন

রোববার নতুন উপাচার্য মোহাম্মদ ইকবাল যোগ দিতে এলে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা দলের নেতা-কর্মীরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। ওই ঘটনায় গতকাল সোমবার বিকেলে গাজীপুর সদর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

আরও পড়ুন

বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আমানুল্লাহ বলেন, ‘মামলা-হামলা করে ডুয়েটিয়ানদের ন্যায্য দাবির আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকারি কাজে বাধা, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলাটি করেছে। এতে অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।