ভোলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ফজলুল কাদের বলেন, ভোলায় ইন্ডাস্ট্রি গড়ে ওঠার আদর্শ জায়গা। নদীপথে সর্বত্র যাওয়া যায়। সব ধরনের কৃষিপণ্য, প্রাণিসম্পদ, গ্যাস ও বিদ্যুতে সমৃদ্ধ অঞ্চল এটি। চট্টগ্রাম ও পায়রা বন্দর থেকে কাছের একটি জেলা। এখানে আটটি গ্যাস ক্ষেত্র রয়েছে। আরও গ্যাসক্ষেত্র পাওয়া যাচ্ছে। রিভার ক্রসিংয়ের কারণে এ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অতএব শিল্প-কারখানা ভোলায় করতে হবে।

ভোলার তিন দিকে নদী, একদিকে বঙ্গোপসাগর। এখানে আছে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার খাল। যাতে অনায়াসে ছোট-খাট জাহাজ চলাচল করে। ভোলা চট্টগ্রাম ও পায়রা সমুদ্রবন্দর কাছাকাছি। ভোলার মেঘনা নদী দিয়ে প্রতিদিন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আসা লাইটার জাহাজগুলো মাল বোঝাই করে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করছে। এমন পরিস্থিতিতে ভোলার মাটিতে শিল্প-কারখানা নির্মাণের জোরালো দাবি জানাচ্ছেন ভোলাবাসী। তাঁদের ভাষ্য, এখানে গ্যাস ও বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই। সুতরাং শিল্প-কারখানা নির্মাণ ও ভোলার মানুষের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল বলেন, সরকারের ঘরে ঘরে গ্যাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির ভোলা শহরে ৪০ কিলোমিটার পাইপলাইন বসিয়েছে। দুই দফায় প্রায় সাত হাজার পরিবারের কাছ থেকে আবেদনপত্র জমা নেওয়া হয়েছে। ২ হাজার ৩৫০টি পরিবারকে গ্যাস–সংযোগ দেওয়া হয়েছে। আরও ২০০ পরিবারকে সংযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় কিছু ব্যক্তি-গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ভোলার গ্যাস ভোলার ঘরে ঘরে না দিয়ে, অন্য স্থানে দেওয়া অন্যায়।

ভোলা শহরের ব্যবসায়ী আবদুর রব, ব্যাংকার মহিববুর রহমান, গৃহিণী সানজিদা আক্তার ও শিক্ষক আবদুল হালিম জানিয়েছেন, যাঁরা অনেক কষ্ট করে ও অর্থ ব্যয় করে গ্যাস পাওয়ার আশায় সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা দিতে পেরেছেন, যাঁরা গ্যাস পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন, যাঁদের বাড়ির উঠানে গ্যাসের লাইন পৌঁছে গেছে, সরকার যেন তাঁদের গ্যাস পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। বাকিদের সিদ্ধান্ত নাহয় পরে নেওয়া হোক।

ভোলা নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব এস এম বাহাউদ্দিন বলেন, ভোলায় সেলটেক সিরামিক কারখানা নির্মিত হয়েছে। এখানে উৎপাদিত পণ্য কারখানার নিজস্ব ঘাট থেকে জাহাজে করে নদীপথে দ্রুত চট্টগ্রাম বন্দরে যেতে পারে। আবার সড়কপথে বরিশাল, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ অন্যান্য জেলায় যাচ্ছে। ফেরির কারণে একটু বিলম্ব হচ্ছে, কিন্তু ঝামেলা নেই। ভোলার গ্যাস দিয়ে ভোলায় গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হলে উদ্যোক্তারা সুবিধা নিতে পারবেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভোলার গ্যাসের নতুন কূপ ঘিরে সমৃদ্ধির হাতছানি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাঁদের স্বপ্ন ভোলায় একটি ইপিজেড তৈরি হোক। পাশাপাশি মৎস্য প্রক্রিয়াজাত করার কারখানা, সার কারখানাসহ গ্যাসভিত্তিক কলকারখানা নির্মাণ হোক।

ভোলা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভোলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবদুল মমিন বলেন, ভোলায় একের পর এক গ্যাসকূপ পাওয়া যাচ্ছে। পর্যাপ্ত গ্যাসও মজুত আছে। এ অবস্থায় সরকার যেমন এলএনজি করে ভোলার গ্যাস ভোলার বাইরের জেলায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তেমনই ঢাকায় ডিসি সম্মেলনে ভোলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইকোনমিক জোন) গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভোলার ভেদুরিয়ায় একটি জমি পছন্দও করা হয়েছে। যদি অর্থনৈতিক জোন হয়ে যায়, তাহলে এমনিতেই ভোলায় আরও গ্যাসভিত্তিক ইন্ডাস্ট্রি নির্মাণ করা হবে। তখন ভোলার বেকার ছেলেরা সেখানে কাজ করতে পারবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিদিনই ভোলায় শিল্পপতিরা এসে শিল্পকারখানার সম্ভাব্যতা যাচাই করছেন। এখানে ভারী শিল্পকারখানা গড়ে উঠতে হলে আগে একাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানা গড়ে তুলতে হবে। তখনই ভারী শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে। এ কারণে ভোলার বিসিককে আগে গ্যাস–সংযোগ দেওয়া জরুরি। বছরের পর বছর সে কাজ হচ্ছে না।