ছাত্রের সংবর্ধনায় মানপত্র পাঠ করলেন শিক্ষক

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের সংবর্ধনায় মানপত্র পাঠ করেন তাঁরই শিক্ষক আব্দুল মজিদ। শনিবার দুপুরেছবি: প্রথম আলো

মঞ্চে বসা ছাত্র, তিনি এখন সরকারের আইনমন্ত্রী। মন্ত্রী হওয়ার পর নিজ এলাকায় প্রথম পা রাখলে তাঁকে দেওয়া হলো গণসংবর্ধনা। অনুষ্ঠানের মানপত্র পাঠের দায়িত্ব পড়ল তাঁরই শিক্ষক আব্দুল মজিদের ওপর। মানপত্র পাঠ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই শিক্ষক।

আজ শনিবার দুপুরে সর্বসাধারণের আয়োজনে সংবর্ধনায় ঝিনাইদহের শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ মানপত্র পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন এ প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ছাত্র ও বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আজ প্রথম সরকারি সফরে শৈলকুপায় আসেন আসাদুজ্জামান। তাঁর আগমনে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয় শৈলকুপা ডিগ্রি কলেজ মাঠে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯৮৯ সালে এইচএসসি পাস করেন আসাদুজ্জামান।

অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ মানপত্র পাঠ করে বলেন, ‘অনেক কীর্তিমানের জন্মভূমি আমাদের এই শৈলকুপা। মহাত্মন, এই জনপদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সন্তান আপনি। শুধু প্রশংসা ও গুণকীর্তন করেই আপনার কৃতিত্বের বর্ণনা করা সম্ভব নয়। শৈলকুপার আপামর মানুষের কাছে আসাদুজ্জামান শুধু একটি নাম নয়, এটা কল্পনার অতীত বিস্ময়। হে দেশবরেণ্য! আপনি আমাদের হৃদয়ের মধ্যমণি হয়ে থাকবেন। আপনি দেশের, আপামর মানুষের হয়ে থাকবেন।’ মানপত্র পাঠের পর নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মন্ত্রী হওয়ার পর আজ প্রথমবার এলাকায় এসে আমি মায়ের পায়ে সালাম করেছি, বাবার কবর জিয়ারত করেছি। আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে এমপি ও মন্ত্রী বানিয়েছেন—আমার দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন আমি আপনাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারি।’

নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো ধরনের অন্যায়কে প্রশ্রয় দিলে জাতীয়তাবাদী দল তার দায় নেবে না। দু-একজন নেতার মাস্তানির জন্য, দু-একজন নেতার টেন্ডারবাজির জন্য, দু-একজন নেতার কালোবাজারির জন্য, অসাধু ব্যবসার জন্য এই দল আর ভবিষ্যতে কারও দায় নেবে না।’ তিনি বলেন, ‘কৃষকের সার কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। শ্রমিকের ন্যায্য হিস্যা শ্রমিককে বুঝে দিতে হবে। শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার জন্য শিক্ষককে ন্যায্য সম্মান দিতে হবে।’

ঝিনাইদহের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘ঈদের পরপরই ইনশা আল্লাহ এলাকায় উন্নয়নকাজ শুরু হবে। আপনারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একটি তালিকা তৈরি করুন। ধাপে ধাপে সব উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হবে। প্রতিটি কাজ হবে স্বচ্ছভাবে, জনগণের জবাবদিহির মাধ্যমে।’ দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আগে কাজ শুরু করতে গিয়ে পার্সেন্টেজের নামে অনিয়মের কথা শুনেছি। আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, এখন থেকে এসব বন্ধ। আমার সঙ্গে এমন রাজনীতি চলবে না।’

সামাজিক সম্প্রীতির বিষয়েও দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘হিন্দু বা অন্যান্য অমুসলিম যাদের সংখ্যালঘু বলা হয়, তাদের ওপর কোনো ধরনের অনিয়ম বা নির্যাতন বরদাশত করা হবে না। সবাই এই দেশের নাগরিক, সবার সমান অধিকার রয়েছে। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ হবে।’ তিনি বলেন, ‘দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে শুধু শৈলকুপা নয়, পুরো ঝিনাইদহ জেলার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই।’

সাবেক পৌর মেয়র খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, শৈলকুপা পৌর বিএনপির নেতা নজরুল ইসলাম জোয়ার্দার, তৈয়বুর রহমান, সাবেক পৌর মেয়র খলিলুর রহমানসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন নেতা বক্তব্য দেন।