এর আগে ১১ নভেম্বর সদর উপজেলার মোকামবাজার এলাকায় ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে গাছ কাটছিলেন স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিক্রমজিৎ তাঁর ছেলেকে নিয়ে মোটরসাইকেলে ওই এলাকা অতিক্রম করতে গেলে একটি গাছ মোটরসাইকেলের ওপর পড়ে। এতে বিক্রমজিৎ ঘটনাস্থলে মারা যান ও তাঁর ছেলে জয় বর্ধন গুরুতর আহত হন। নিহত বিক্রমজিৎ বাংলা টিভির শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন। তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া চা-বাগানের বাসিন্দা।

নিহত ব্যক্তির ছেলে জয় বর্ধন বলেন, ‘যাঁরা গাছ কাটছিলেন, শুনেছি তাঁরা ওই এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের লোকজন। গাছ কাটতে গিয়ে এভাবে আমার বাবাকে তাঁরা হত্যা করলেন। আমাদের পরিবার অসহায় অবস্থায় পড়েছে। আমরা এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি চাই।’

জানতে চাইলে মৌলভীবাজার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মশিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, এ বিষয়ে গতকাল মামলা রেকর্ড হয়েছে। ঘটনার দিন থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পলাতক। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আজাদুর রহমান আজাদ বলেন, এটা একটা ন্যক্কারজনক ঘটনা। এভাবে রাস্তার গাছ চুরি করতে গিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নিয়ে এসে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গিয়াস নগর এলাকার একাধিক ব্যক্তি প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার দিন সকাল থেকে প্রকাশ্যে রাস্তার পাশের সরকারি গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছিলেন অকিল মিয়া, মোয়াক্কিল মিয়াসহ আরও কয়েকজন। তবে তাঁদের সঙ্গে এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত থাকায় কেউ গাছ কাটতে নিষেধ করেননি।

এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গা ঢাকা দিয়েছেন। তাই অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।