আজ শনিবার দুপুরে মানিকগঞ্জের কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসন জনসনের সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ সোসাইটি অব সার্জন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চিকিৎসাবিদ্যা অনেক ব্যয়বহুল ও কঠিন। এ বিদ্যার শেষ নেই, সমুদ্রের মতো। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বিষয় আবিষ্কৃত হচ্ছে, চিকিৎসার পদ্ধতি পরিবর্তন হচ্ছে, নতুন যন্ত্রপাতি আসছে। সে কারণে নতুনভাবে শিক্ষারও প্রয়োজন হচ্ছে। একজন ভালো চিকিৎসক হতে হলে প্রথমে পুঁথিগত বিদ্যা গ্রহণ করতে হবে। তবে চিকিৎসাসেবায় শুধু পুঁথিগত বিদ্যা দিয়েই হবে না, তাঁকে ব্যবহারিকও শিখতে হবে। রোগীর কাছে যেতে হবে, রোগীকে দেখতে হবে। আলোচনা করার মধ্য দিয়ে রোগীকে চিকিৎসা দিলে তা ফলপ্রসূ হবে।’

জাহিদ মালেক আরও বলেন, ‘মানিকগঞ্জে প্রথম কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হাতে–কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে অস্ত্রোপচারের সময় পেটের মধ্যে সুই-সুতা রেখে সেলাই দেওয়া চিকিৎসক হবেন না। যা আমাদের দেশে ঘটেনি তা নয়। আমরা আরও উন্নতি করতে চেষ্টা করছি। রোগীরা ভালো সেবা পেলে আর দেশের বাইরে যাবে না।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অনেক হাসপাতাল হয়েছে। ৩৮টি মেডিকেল কলেজ হয়েছে, আগে সাত-আটটি ছিল। আগে দেশে চিকিৎসাসেবা-সংক্রান্ত একটি ইনস্টিটিউটও ছিল না। এখন ১৫-২০টি হয়েছে। কিডনি, চক্ষু, বার্ন ও ক্যানসার ইনস্টিটিউটসহ আরও বেশ কয়েকটি ইনস্টিটিউট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এসব প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছে।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘আমাদের ওষুধপত্রের অভাব নেই। শতভাগ ওষুধ আমাদের দেশেই তৈরি হয়। এসব ওষুধ বিশ্বমানের, যা বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। একটি বিষয়ের ঘাটতি আমরা পুরোপুরি মেটাতে পারিনি। আমাদের প্রশিক্ষিত জনবলের প্রয়োজন। এ জন্যই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়বে। তাঁদের ওপর রোগীরা আস্থা রাখবেন।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি চারটি কমিটি করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিভিন্ন বিভাগের লোকজন আছেন এসব কমিটিতে। উদ্দেশ্য হলো সারা দেশের হাসপাতালগুলো নিয়মিত তদারকি (মনিটরিং) করা। হাসপাতাল, জনবল, যন্ত্রপাতি সবই আছে; শুধু তদারকির অভাব। তদারকি থাকলে রোগীরাও ভালো থাকবেন। ইতিমধ্যে এসব কমিটির কাজ শুরু হয়ে গেছে। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপ অনুযায়ী করোনায় যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের অধিকাংশই ভ্যাকসিন নেননি। কারও মৃত্যু কাম্য নয়।

দেশে নতুন দুটি লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, করোনাকালে চিকিৎসা খাতে অনেক অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়েছিল। তখন ভারত থেকে অক্সিজেন এনে দেশের মানুষের চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে দেশে ১৫০ থেকে ২০০ টন অক্সিজেন উৎপাদিত হচ্ছে। চিকিৎসা খাতকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিতে দেশে নতুন দুটি লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। যার একটি মানিকগঞ্জে ও অন্যটি উত্তরবঙ্গে স্থাপন করা হবে। এতে দেশে অক্সিজেন উৎপাদন তিন গুণ বেড়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আবদুল লতিফ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ গোলাম আজাদ খান, কর্নেল মালেক মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেন, হাসপাতালের পরিচালক বজলুল করিম চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সালাম ও মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. রমজান আলী প্রমুখ।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন