এলজিইডি কর্মকর্তার সঙ্গে ছাত্রদল নেতার বাগ্বিতণ্ডা, প্রিন্টার ভাঙচুরের অভিযোগ
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয়ে গিয়ে এক কর্মকর্তার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়েছেন এক ছাত্রদল নেতা। এ সময় কার্যালয়টির কম্পিউটারের প্রিন্টার ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে ওই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার নাম সাজ্জাদ হোসেন ওরফে হৃদয়। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সর্বশেষ নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। হৃদয় এন্টারপ্রাইজ নামে তাঁর একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এলজিইডি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, সাজ্জাদ হোসেন গতকাল বিকেলে কার্যালয়ে এসে উপসহকারী প্রকৌশলী আতা উল্লাহর কাছে হিসাবরক্ষক সয়ন বড়ুয়ার ফোন নম্বর জানতে চান। তা দিতে দেরি হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন সাজ্জাদ। এ সময় তাঁর সঙ্গে প্রকৌশলী আতা উল্লাহর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সাজ্জাদ ক্ষুব্ধ হয়ে এলজিইডি কার্যালয়ে থাকা প্রিন্টার ভাঙচুর করেন। পরে কার্যালয়ের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফটিকছড়ি উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘কার্যালয়ে এসে কর্মকর্তার সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডা এবং প্রিন্টার ভাঙচুরের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করছেন।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমার এলাকার এক কর্মকর্তার (সয়ন বড়ুয়ার) ফোন নম্বর চাইলে উপসহকারী প্রকৌশলী আতা উল্লাহ তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এ সময় উভয়ের মধ্যে কিছু কথা-কাটাকাটি হয়েছে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে কম্পিউটারের প্রিন্টার ভাঙচুরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ধরনের কিছু করার প্রশ্নই আসে না।’
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীম প্রথম আলোকে বলেন, এলজিইডির কার্যালয়ের এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছে। একজন কর্মচারীর ফোন নম্বর চাওয়াকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডা হয়েছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তি দাবি করেছেন, কম্পিউটারের প্রিন্টার ভাঙার তথ্য সঠিক নয়।