চট্টগ্রামের ১৬ আসন
প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ী বেশি
প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ীদের পরে আছেন আইনজীবী, চাকরিজীবী ও শিক্ষক। তবে পেশায় রাজনীতিবিদের সংখ্যা এবার বেড়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৬ আসনে প্রার্থী হয়েছেন ১১৫ জন। তাঁদের মধ্যে ৪৮ জন ব্যবসায়ী। সেই হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ী ৪১ শতাংশ। পেশাগতভাবে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বেশি।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে প্রার্থীদের হলফনামা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। এবারের হলফনামায় প্রার্থীদের বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, মামলার তথ্য, আয়, সম্পদসহ ১০ ধরনের তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে দেশের ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মোট প্রার্থী হচ্ছেন ১ হাজার ৯৮১ জন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) ‘নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি: ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রার্থীদের মধ্যে ৪৮ শতাংশের বেশি প্রার্থী মূল পেশা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ব্যবসা। জাতীয় পর্যায়ের তুলনায় চট্টগ্রামে এবার ব্যবসায়ী প্রার্থীর সংখ্যা কম।
চট্টগ্রামের প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবসায়ীদের পরে আছেন আইনজীবী, চাকরিজীবী ও শিক্ষক। তবে পেশায় রাজনীতিবিদের সংখ্যা এবার বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় প্রার্থীরা ২০ ধরনের পেশার কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে সাংবাদিকতা, ইসলামি বক্তা, দলিল লেখক, টিউটর, সামাজিক ব্যক্তিত্ব, জমিদারি ইত্যাদি।
এবারের নির্বাচনে গতবারের তুলনায় এই ব্যবসায়ী প্রার্থীর সংখ্যা কমেছে। দুই বছর আগে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২৪ প্রার্থীর মধ্যে ব্যবসায়ী প্রার্থী ছিলেন ৭২ জন।
বিএনপির ১৪ জনই ব্যবসায়ী
একমাত্র দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চট্টগ্রামের ১৬ আসনের সব কটিতে প্রার্থী দিয়েছেন। বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ১৪ জনই ব্যবসায়ী।
তাঁরা হলেন চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) সরোয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর-ডবলমুরিং) সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) মোহাম্মদ এনামুল হক, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) সরওয়ার জামাল নিজাম, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) জসীম উদ্দীন আহমেদ, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) নাজমুল মোস্তফা আমীন ও চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী।
অন্য দুজনের মধ্যে চট্টগ্রাম–৩ (সন্দ্বীপ) আসনের মোস্তফা কামাল পাশার পেশা মাছ চাষ ও সমাজসেবা এবং চট্টগ্রাম–৫ (হাটহাজারী) আসনের প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন আইনজীবী।
বিএনপি সর্বশেষ অংশ নিয়েছিল ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ওই নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেয় বিএনপি। ১৬ আসনের মধ্যে ৮ জন ছিলেন ব্যবসায়ী।
এবারের হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির ১৬ প্রার্থীদের মধ্যে ১৪ জনের সম্পদের পরিমাণ কোটি টাকার ওপরে। তাঁদের মধ্যে চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী আয়কর রিটার্নে ৩৬৫ কোটি ৫ লাখ ২৮ হাজার ৮৩৬ টাকার সম্পদের কথা উল্লেখ করেছেন।
আয়কর রিটার্নে সবচেয়ে কম সম্পদের কথা উল্লেখ করেছেন হুমাম কাদের চৌধুরী, যার পরিমাণ ৮৪ লাখ ২০ হাজার ২৬২ টাকা। এরপর নাজমুল মোস্তফা আমীন দেখিয়েছেন ৮৪ লাখ ৫০ হাজার ৮০২ টাকা।
ব্যবসায়ী, শিক্ষক, আইনজীবী—সব আছে জামায়াতের
এবারের নির্বাচনে ১৬ আসনের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ১৪টিতে প্রার্থী দিয়েছে। ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের কারণে চট্টগ্রাম–৫ ও চট্টগ্রাম–১৪ জোটের শরিকদের ছেড়ে দিয়েছে। তবে পরে চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী–চান্দগাঁও) আসন ছেড়ে দিলেও জামায়াতের প্রার্থী নির্ধারিত সময়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেননি। ফলে ব্যালটে প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ও প্রতীক থাকবে।
জামায়াতে ইসলামীর এই ১৪ প্রার্থীর মধ্যে ব্যবসায়ী হচ্ছেন ৬ জন। তাঁরা হলেন চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে মুহাম্মদ আলা উদ্দীন, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) মো. আনোয়ার ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) মো. শাহাজাহান মঞ্জু, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) এ কে এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর-ডবলমুরিং) মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী ও চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) শাহজাহান চৌধুরী।
চিকিৎসক হিসেবে আছেন তিনজন। তাঁরা হচ্ছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) এ টি এম রেজাউল করিম, চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) মো. আবু নাছের ও চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) মোহাম্মদ ফরিদুল আলম।
শিক্ষকতা করতেন কিংবা করেন, এমন প্রার্থীর সংখ্যা তিনজন। তাঁরা হলেন চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) মুহাম্মদ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) মাহমুদুল হাসান ও চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।
বাকি দুজনের মধ্যে চট্টগ্রাম–১ (মিরসরাই) আসনের মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান আইনজীবী ও চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর–পতেঙ্গা) আসনের মোহাম্মদ শফিউল আলম চাকরিজীবী।
কমেছে কৃষক, বেড়েছে আইনজীবী–শিক্ষক
এবারের হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এবারের নির্বাচনে পেশা হিসেবে কৃষি উল্লেখ করেছেন মাত্র একজন প্রার্থী। তিনি হচ্ছেন চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ) আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ বাদশা মিয়া। গত নির্বাচনে ‘কৃষক’ ছিলেন আটজন।
প্রার্থীদের মধ্যে কৃষকের সংখ্যা কমলেও এবার আইনজীবী, চাকরিজীবী ও শিক্ষকতা করেন এমন প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে। গতবার প্রার্থীদের মধ্যে আইনজীবী ছিলেন ৯ জন। এবার আছেন ১৫ জন। গত নির্বাচনে চাকরিজীবী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন ১১ জন। এবার করছেন ১৪ জন। শিক্ষকতা করতেন কিংবা করেন এমন প্রার্থীর সংখ্যা এবার ১৪ জন। গতবার ছিলেন ৮ জন। আর পেশায় চিকিৎসক, এমন প্রার্থী আছেন ৪ জন। গতবার ছিল ২ জন।
এবার রাজনীতিবিদ প্রার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। গতবার এ ধরনের প্রার্থী ছিলেন দুজন। এবার আছেন চারজন। এই চারজনই বামপন্থী সংগঠন থেকে নির্বাচন করছেন। তাঁরা হলেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্ক্সবাদী) চট্টগ্রাম–৯ আসনের মো. শফি উদ্দিন কবির, চট্টগ্রাম–১০ আসনের আসমা আক্তার ও চট্টগ্রাম–১১ আসনের দীপা মজুমদার এবং বাসদের চট্টগ্রাম–১১ আসনের মো. নিজামুল হক আল কাদেরী।