রাঙামাটিতে ছাত্রদলের কমিটি বাতিলের দাবিতে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ
রাঙামাটিতে জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটি বাতিলের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছেন দলটির একাংশের নেতা-কর্মীরা। আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা শহরের কাঁঠালতলি এলাকায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি হয়। পরে বেলা দুইটার দিকে বিএনপির নেতা-কর্মীদের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।
এর আগে গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। ২৩ সদস্যের এ আংশিক কমিটিতে মো. অলি আহাদকে সভাপতি ও নাঈমুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। ৩০ দিনের মধ্যে এ কমিটিকে পূর্ণাঙ্গ করার জন্য কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ কমিটি ঘোষণার পরপরই বিক্ষুব্ধ সংগঠনটির জেলা শাখার একাংশের নেতা-কর্মীরা। তাঁদের দাবি, কমিটির নতুন সভাপতি মো. অলি আহাদ রাঙামাটির সাজেকে তিন পর্যটককে অপহরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া সাধারণ সম্পাদকের নামেও মাদকের মামলা রয়েছে। তাই এ কমিটি বাতিল করতে হবে। আজ রোববার দিবাগত রাত ১২টার মধ্যে কমিটি বাতিল করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কমিটি বাতিলের দাবিতে নেতা-কর্মীরা কাঁঠালতলি এলাকায় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এ সময় তাঁরা নবগঠিত কমিটি নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। আর সড়কের দুই পাশে যানবাহনের চাপে অতিরিক্ত যানজট দেখা দিয়েছে। এ সড়ক দিয়ে রাঙামাটি থেকে চট্টগ্রাম যেতে হয়। অবরোধের কারণে রাঙামাটির সঙ্গে কার্যত চট্টগ্রামসহ সারা দেশের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে বেলা দুইটার দিকে আবার যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে থাকা রাঙামাটি কলেজ ছাত্রদল শাখার সহসভাপতি সুরেশ চাকমা বলেন, সভাপতি অপহরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত। আর সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধেও মাদকের মামলা রয়েছে। এরপলও তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কমিটি বাতিলের সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
রাঙামাটি জেলা ছাত্রদলের সাবেক (সদ্য বিলুপ্ত) সহদপ্তর সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, নতুন কমিটি আজ রাত ১২টার মধ্যে বাতিল করতে হবে। তা না হলে আগামীকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধসহ কঠোর আন্দোলন ঘোষণা করা হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ে নবগঠিত কমিটির সভাপতি মো. অলি আহাদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়। তবে তিনি রিসিভ করেননি। জানতে চাইলে সাধারণ সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম বলেন, ‘বিক্ষোভকারীরা যে অভিযোগ করছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা। আংশিক কমিটি হওয়ায় সবার নাম এতে আসেনি। কমিটিতে নাম আসুক এটা অনেকেই চেয়েছিলেন। প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে তাঁরা আমার ভাই। পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তাঁদের বিবেচনা করা হবে।’
অবরোধে সড়কে ভোগান্তি
এদিকে ছাত্রদলের এ অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। রাঙামাটি থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া পাহাড়িকা সুপার সার্ভিসের চালক মো. নুরুল আলম বলেন, অবরোধের কারণে তিনি দেড় ঘণ্টা ধরে যাত্রী নিয়ে সড়কে আটকে রয়েছেন।
একই কথা বলেন চট্টগ্রামগামী যাত্রী তপন চৌধুরী। তিনি বলেন, তাঁর জরুরি কাজে চট্টগ্রামে যেতেই হবে। আবার কাজ শেষ করে আজকের মধ্যে রাঙামাটি ফিরতে হবে। কিন্তু অবরোধের কারণে তাঁর অর্ধেক বেলা ইতিমধ্যে শেষ। এখন কী করবেন বুঝতে পারছেন না।
জানতে চাইলে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মামুনুর রশীদ বলেন, কমিটি ঘোষণা নিয়ে অনেকের ক্ষোভ রয়েছে। এ ক্ষোভ নিরসনের বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
রাঙামাটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোছাইন বলেন, আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ তুলে নিয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।