নিহত নিরাপত্তাকর্মীর নাম আজাদুল হক (৪০)। তিনি গাইবান্ধার গবিন্দগঞ্জ উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের আরব আলীর ছেলে। আজাদুল হক চন্দ্রা এলাকার মাহমুদ জিনস নামের একটি তৈরি পোশাক কারখানার নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন।

ওই কারখানার শ্রমিক ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ সকালে আজাদুলসহ কয়েকজন শ্রমিক একসঙ্গে কারখানায় যাচ্ছিলেন। সকাল ৮টার দিকে চন্দ্রা এলাকায় দ্রুতগতির একটি ট্রাক আজাদুলসহ কয়েকজন শ্রমিককে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই আজাদুলের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া আরও তিন শ্রমিক আহত হন। তৎক্ষণাৎ স্থানীয় লোকজন আজাদুলকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

এদিকে দুর্ঘটনার পর শ্রমিকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে দুর্ঘটনাকবলিত ওই ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করে। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় শ্রমিকদের একাংশ মহাসড়কে যানজটে আটকে থাকা অর্ধশতাধিক যানবাহনে ভাংচুর চালান। দুর্ঘটনার পর থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ওই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ আছে। এতে মহাসড়কের দুই দিকে প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

কারখানার শ্রমিক আবু হানিফ ও আশরাফ আলী বলেন, সড়কের বিভিন্ন স্থানে পদচারী–সেতু নির্মাণ করা হলেও তাঁদের কারখানার সামনে বা এর আশপাশে কোনো পদচারী-সেতু নেই। সেখানে পদচারী-সেতু থাকলে এই দুর্ঘটনা ঘটত না। তাই তাঁরা দ্রুত ওই পদচারী-সেতু নির্মাণের দাবি জানান।

ঘটনাস্থলে বর্তমানে কোনাবাড়ি হাইওয়ে পুলিশ সদস্যরা আছেন। কোনাবাড়ি হাইওয়ে পুলিশের ওসি আতিকুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য গাজীপুর জেলা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনার পর ওই ট্রাকের চালক কৌশলে পালিয়ে গেছেন। ক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা ওই ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। পরে স্থানীয় লোকজনের চেষ্টায় আগুন নেভানো হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে।