সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা
তিন বছর তিন মাস আগে এক ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনায় আজ বৃহস্পতিবার নাটোর আদালতে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলামসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার আবেদন করা হয়েছে। আদালত আবেদনটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে ১৬ জুন আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন।
নিহত ব্যক্তির নাম আইয়ুব আলী। তিনি বাগাতিপাড়া উপজেলার মাড়িয়া সরকারপাড়ার বাসিন্দা। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মারধরে আহত হওয়ার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাঁর মৃত্যু হয়। আইয়ুব আলীর স্ত্রী শাহানাজ পারভীন (৫০) আজ দুপুরে বাগাতিপাড়া আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু সাঈদের আদালতে হত্যা মামলাটি করেন।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলামকে। অন্য আসামিরা হলেন মহিদুল ইসলাম (৩৬), মিজানুর রহমান (৩৬), মাইনুল ইসলাম (৩২) ও আবদুল মজিদ (৫৫)। মামলার আরজিতে বাদী উল্লেখ করেছেন, সংসদ সদস্য শহিদুলের নির্দেশে ২০২০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি অন্য আসামিরা তাঁর (বাদীর) স্বামী আইয়ুব আলীকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যান। ওই দিন সকালে শহিদুলের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আইয়ুবকে দেনাদার সাব্যস্ত করে শহিদুল তাঁর কাছ থেকে লিখিত কাগজপত্র করে নেওয়ার হুকুম দেন। আইয়ুব তাতে আপত্তি করলে সংসদ সদস্য তাঁকে মারধর করে বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেওয়ার হুকুম দেন। এ সময় অন্য আসামিরা তাঁকে মারধর করেন। এতে আইয়ুব জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
আরজিতে আরও বলা হয়, গুরুতর আহত অবস্থায় আইয়ুবকে ভ্যানে করে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ছেলে সোহাগ আলী বাদী হয়ে বাগাতিপাড়া থানায় মামলার আবেদন করেন। নিহত ব্যক্তির সুরতহাল তৈরি এবং নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত করলেও আবেদনটি মামলা হিসেবে নেয়নি পুলিশ।
পরে মামলার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন নিহত আইয়ুব আলীর স্ত্রী। আরজিতে তিনি লিখেছেন, প্রধান আসামি একজন সংসদ সদস্য হওয়ায় তাঁর চাপে এ বিষয়ে এত দিন আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেননি। এ জন্য মামলা করতে দেরি করেছেন। আদালত লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করেন এবং আদেশের জন্য ১৬ জুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
বাদীর আইনজীবী সুফি মো. মমতাজ রায়হান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন এবং আইনানুগ আদেশ প্রদানের জন্য দিন ধার্য করেছেন। আমরা আদেশের জন্য অপেক্ষা করব।’
এ বিষয়ে সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, মামলার কথিত ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তা ছাড়া বিষয়টি পুরোনো ও নিষ্পত্তিকৃত। সংসদ সদস্যের দাবি, তিনি রাজনীতি করেন। তাঁর প্রতিপক্ষ রয়েছে। সামনে নির্বাচন। নির্বাচনে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে অন্যায় ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আছেন বলে জানিয়েছেন শহিদুল।