ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের যে কয়েকটি সমাবেশ হয়েছে, তার তিন–চার দিন আগে থেকেই সমাবেশ শুরু হয়ে গেছে। সমাবেশ থাকে বেলা ১টা-২টার দিকে। কিন্তু জনগণ সকাল ১০টার মধ্যেই মাঠ ভরিয়ে ফেলে। এ কারণে তাঁরা তখনই সমাবেশ শুরু করে দেন। এভাবে ছয়টা গণসমাবেশ হয়েছে। ১২ নভেম্বর সপ্তম সমাবেশ হবে ফরিদপুরে। ইতিমধ্যে ওখানেও যানবাহনের হরতাল হয়ে গেছে। নছিমন, করিমনের সমস্যা বিএনপির সমাবেশ পর্যন্ত থাকে। এই সমস্যাকে উপলক্ষ করে পরিবহন সমিতি ধর্মঘট ডাকে। তারপর নছিমন, করিমনের আর সমস্যা থাকে না। গাড়ি চলাচল শুরু হয়ে যায়। এই সরকারের এটা একটা নগ্ন, অগণতান্ত্রিক পন্থা যে গাড়ি-ঘোড়া বন্ধ করে দিলে বিএনপির সমাবেশ হবে না। বিএনপির ডাকে জনগণ আসবে না। সেটা মিথ্যা প্রমাণিত হয়ে গেছে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা আর রংপুরের সমাবেশে।’

সরকারদলীয় নেতাদের টাকা পাচারের কারণে দুর্ভিক্ষ আসছে মন্তব্য করে বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘সরকার এখন বলছে, দুর্ভিক্ষ হবে। দুর্ভিক্ষ তো হবেই। আওয়ামী লীগের একেবারে ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা থেকে শুরু করে, একেবারে উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের কত টাকা আছে, তাঁরা নিজেরাও জানেন না। টাকা পাচার করতে করতে শুধু বিদ্যুৎ সেক্টরে ৯০ হাজার কোটি টাকা পাচার করে নিয়ে চলে গেছে। এটা আমার, আপনার, রিকশাচালকের টাকা। এ কারণে আজ দুর্ভিক্ষের কথা বলা হচ্ছে। দুবাইয়ে এখন যত বাড়ি বিক্রি হচ্ছে, তার গ্রাহকদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তাঁরা সরকারদলীয় নেতা-কর্মী। এভাবে অর্থ পাচারের কারণে টাকার অভাবে সরকার খাদ্য আমদানি করতে পারছে না। দেশের অবস্থা বর্তমানে খুব খারাপ।’

ইকবাল হাসান মাহমুদ আরও বলেন, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে মানুষ দিশেহারা। রিজার্ভ ফান্ড কমে যাওয়ায় ব্যাংকসমূহে আর্থিক সংকট বেড়ে গেছে। ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় আমদানিতে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে জনগণ অত্যন্ত খারাপ সময় পার করছে। যেকোনো সময় দেশের অবস্থা ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। দুর্নীতির কারণে ৭৪ সালে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। তখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল। এবারও দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের কারণে দেশে দুর্ভিক্ষ আসতে চলছে।

বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার বলেন, তাঁদের সমাবেশ ভোটের অধিকার, গণতন্ত্রের মুক্তির, সাংবাদিকতার স্বাধীনতার ফিরিয়ে আনার। সেই সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, দুর্নীতি, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, অন্যায়, অবিচার, রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় জেলখানায় আটকে রাখাসহ অসংখ্য বিষয়ের প্রতিবাদে সমাবেশ। রাজশাহীতে এটাই বিএনপির শেষ বিভাগীয় সম্মেলন। এরপর ঢাকায় বড় সমাবেশ হবে। রাজশাহীর এই সমাবেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। তবে তাঁরা শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চান।

রাজশাহীর সমাবেশের প্রস্তুতি বিষয়ে মিজানুর রহমান বলেন, তাঁরা রাজশাহী নগরের ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জন্য আবেদন করেছিলেন। সমাবেশের জন্য মাঠটি তাঁরা পেয়েছেন।