হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামানের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করা হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম (সিঁড়ি প্রতীক) আজ মঙ্গলবার রিটানিং কর্মকর্তার কাছে এ আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বগুড়া-২ আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আবু আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান বর্তমানে শিবগঞ্জ উপজেলার দেউলী আলিম মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাচনে প্রার্থী হলেও তিনি ওই পদ থেকে পদত্যাগ করেননি এবং হলফনামায়ও বিষয়টি উল্লেখ করেননি, যা নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাতিলযোগ্য। মনোনয়নপত্রে তথ্য গোপন করে তিনি মিথ্যা ঘোষণা প্রদান করেছেন।
অভিযোগকারী স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী হলফনামায় তথ্য গোপন বা মিথ্যা ঘোষণা প্রদান করলে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিলযোগ্য। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র ৪–এর ধারা ২০–এর উপধারা (ঘ) অনুযায়ী, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি পদে থাকলে নির্বাচনী প্রচার শুরুর আগেই পদত্যাগ করতে হয়। কিন্তু জামায়াতের প্রার্থী তা করেননি। নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করায় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান নির্বাচনী সভায় আছেন জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান।
পরে বিষয়টি নিয়ে কথা হয় বগুড়া-২ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামানের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আবু নসর মো. আলমগীর হোসাইনের সঙ্গে। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, কেউ অভিযোগ করতেই পারেন, তবে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ সঠিক নয়। শাহাদুজ্জামান উপজেলার দেউলী আলিম মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি থাকলেও এখন আর নেই। তা ছাড়া সভাপতির পদ অবৈতনিক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির থেকে নির্বাচন করতেও আইনি বাধা নেই।
এদিকে গত সোমবার একই আসনের বিএনপির প্রার্থী ও বগুড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি মীর শাহে আলমের বিরুদ্ধে হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগে তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের আবেদন করে জামায়াতে ইসলামী। বগুড়া জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এ আবেদন দাখিল করেন বগুড়া-২ আসনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামানের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আবু নসর মো. আলমগীর হোসাইন।
জামায়াতের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বগুড়া-২ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মীর শাহে আলম সরকারি দুটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশন (বিসিক) ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) পরিচালক পদে বহাল রয়েছেন। সরকারি দুটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ না করেই তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন, যা নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী মনোনয়নপত্র বাতিলযোগ্য কারণ। এ ছাড়া সরকারি দুটি প্রতিষ্ঠানে পরিচালক পদে থাকার তথ্য তিনি হলফনামাতেও গোপন করেছেন। মনোনয়নপত্রে তথ্য গোপন করে তিনি মিথ্যা ঘোষণা প্রদান করেছেন।
অভিযোগকারী জামায়াত নেতা আবু নসর মো. আলমগীর হোসাইন বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২ অনুযায়ী কোনো প্রার্থী হলফনামায় তথ্য গোপন বা মিথ্যা ঘোষণা প্রদান করলে তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিলযোগ্য।
অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম প্রথম আলোকে বলেন, বিসিক ও বিআরটিসির পরিচালক পদ দুটি অলাভজনক। এ পদে তিনি কোনো বেতন–ভাতা বা সম্মানী পান না। সংবিধানের ৬৬(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সরকারি অলাভজনক পদের যে সংজ্ঞা আছে, তাতে বিসিক ও বিআরটিসির পরিচালক পদ অন্তর্ভুক্ত। তাই গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ধারা ১২(১) (গ) অনুযায়ী ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের পদে থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে কোনো বাধা নেই।
প্রার্থিতা বাতিলের দুটি আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আইন অনুযায়ী এখন আর কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের এখতিয়ার রিটার্নিং কর্মকর্তার নেই। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রতিপক্ষের মনোনয়নের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাইলে তাঁকে এটা নিয়ে নির্বাচন কমিশন কিংবা আদালতে যেতে হবে।