মুরব্বিদের মতো কানাডার বেগমপাড়ায় আমাদের বাড়িগাড়ি নেই: হাসনাত আবদুল্লাহ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার পথসভায় বক্তব্য দেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। আজ সোমবার দুপুরে চৌদ্দগ্রাম বাজারেছবি: প্রথম আলো

কুমিল্লা-৪ আসনের (দেবিদ্বার) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘কানাডার বেগমপাড়ায় আমাদের কোনো বাড়িগাড়ি নেই। তবে মুরব্বিদের অনেকেরই সেখানে বাড়িগাড়ি আছে, তাঁদের সন্তানেরা বিদেশে লেখাপড়া করেন এবং তাঁরা নিজেরা বিদেশে চিকিৎসা নিতে যান।’ আজ সোমবার দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম বাজারে এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন।

এনসিপির উদ্যোগে ‘চলো কুমিল্লা, গড়ি নতুন বাংলাদেশ’ শিরোনামে কুমিল্লায় শুরু হয়েছে তিন দিনের বিশেষ পদযাত্রা। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পথসভাটির আয়োজন করা হয়। এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘এ দেশের সাধারণ মানুষ যেখানে দেশে চিকিৎসা নেয়, সেখানে কিছু ‘অসাধারণ’ মানুষ বিদেশে গিয়ে চিকিৎসাসেবা নেন। আমাদের সন্তানেরা দেশে পড়ালেখা করলেও মুরব্বিদের সন্তানেরা বিদেশে পড়েন। এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।’

বেকারমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যাশা জানিয়ে তরুণ এই সংসদ সদস্য বলেন, এ দেশের যুবসমাজকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। সরকারি প্রতিটি সেক্টরে মেধাবীদের স্থান হবে এবং বেসরকারি খাতেও তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতকে আরও গতিশীল করা দরকার। হাসনাত আবদুল্লাহর মতে, ‘আগামী বাজেটে এই দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, যাতে আমাদের সন্তানদের পড়ালেখার জন্য বিদেশে যেতে না হয়। এ জন্য দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিকায়ন করা জরুরি।’

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘আমরা এখন বিরোধী দলে আছি। অতি উৎসাহী কিছু পুলিশ সদস্য পদোন্নতি পাওয়ার আশায় আমাদের নেতা–কর্মীদের মারধর বা হয়রানি করবে—এটা আসলে পুলিশের একক দোষ নয়। কারণ আমাদের দেশের রাজনীতিবিদেরাই পুলিশ প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার করেন, যাতে তাঁদের কথায় বিরোধী দলকে হয়রানি করা যায়।’ দেশটাকে আরও পাল্টাতে হবে জানিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, পুলিশ প্রশাসনকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।

দেশে আর কখনো আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না জানিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, যে দলের প্রধানরা দেশের লাখ লাখ নেতা–কর্মীকে মাঠে ফেলে পালিয়ে যান, তাঁদের এ দেশে রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ মতভেদ থাকতে পারে, তবে আওয়ামী লীগের প্রশ্নে সবাই ঐক্যবদ্ধ।

এনসিপি নেতা সুফিয়ান রায়হানের সভাপতিত্বে এবং মামুন মজুমদারের সঞ্চালনায় পথসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জামায়াত নেতা জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা রবীন্দ্র নাথ সাহা, জেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী ইব্রাহিম খালেদ এবং কুমিল্লা মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী মাসুমুল বারী কাউছার।

উল্লেখ্য, নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে গতকাল রোববার থেকে এনসিপির বিশেষ পদযাত্রা কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথম দিন মেঘনা, হোমনা, তিতাস ও চান্দিনায় এবং দ্বিতীয় দিন আজ চৌদ্দগ্রাম, ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচং উপজেলায় দলটির পদযাত্রা ও গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়। একদিন বিরতি দিয়ে বুধবার লালমাই, লাকসাম, মনোহরগঞ্জ ও নাঙ্গলকোট উপজেলায় গণসংযোগ ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হবে তিন দিনের এই কর্মসূচি।