চোর সন্দেহে যুবককে বেঁধে নির্যাতন, চারজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ

চোর সন্দেহে এক যুবককে বেঁধে দলবদ্ধভাবে মারধর করা হচ্ছে। গত সোমবার বিকেলে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায়ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় চুরির অভিযোগে এক যুবককে মারধরের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাঙ্গুনিয়ার পোমরা এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বুধবার তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার ওই যুবককে মারধরের ঘটনাটি ঘটে। রাঙ্গুনিয়ার পোমরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মালিরহাট বেলালপাড়া জামে মসজিদের সামনে রশি দিয়ে বেঁধে তাঁকে মারধর করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই যুবককে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়েছে। এ ছাড়া প্লায়ার্স দিয়ে তাঁর নখও উপড়ে ফেলা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, ওই যুবক একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন। অন্য মসজিদে চাকরির সন্ধানে তিনি রাঙ্গুনিয়ার পোমরা এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে মসজিদের মাইক ও ব্যাটারি চুরির অভিযোগে তাঁকে মারধর করা হয়েছে।

মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে  তা নিয়ে অনেকেই সমালোচনায় মেতে উঠেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বোন বাদী হয়ে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় মামলা করেন। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা হলেন—মো. জহির আহম্মদ (৪৮), মো. ওসমান (৩৩) ও মো. জসিম (৩৭), মো. আব্বাস উদ্দিন (৪৩)।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই যুবককে একটি ভবনের দরজার সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। তাঁকে ঘিরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ৫০ থেকে ৬০ জন স্থানীয় মানুষ। এ সময় দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি কাঠের গুঁড়ি ও লাঠি দিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করছেন।

ভিডিওতে শোনা যায়, উপস্থিত কয়েকজন ওই যুবকের উদ্দেশে বলেন, ‘তুই ব্যাটারি চুরি করেছিস?’ জবাবে যুবকটি বলেন, ‘আমি চুরি করিনি।’ একপর্যায়ে তাঁকে ভয় দেখাতে নখ তুলে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে
ছবি: পুলিশের সৌজন্যে

ভিডিও শেষে একজনকে চট্টগ্রামের ভাষায় বলতে দেখা যায়, ‘মসজিদ থেকে ব্যাটারি ও মেশিন চুরি করতে এসে ধরা খেয়েছে চোর। এ ভিডিও শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন। আর চোরকে আপনার এলাকায় দেখলে পিটুনি দিন।’

জানতে চাইলে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মো. রাসেল প্রথম আলোকে বলেন, চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে মব সৃষ্টি করে পিটিয়ে নির্যাতন করার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করেছেন। ঘটনায় জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।