চেম্বার আদালত সিদ্ধান্ত জানানোর পরের দিনই শাকসু নির্বাচন

সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে আন্দোলনকারীদের অবস্থান। সোমবার সন্ধ্যায় শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন–১–এর সামনেছবি: প্রথম আলো

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন নিয়ে জরুরি সিন্ডিকেট বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় স্থগিত হওয়া নির্বাচনের বিষয়ে চেম্বার আদালত সিদ্ধান্ত দিলে পরের দিনই নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য জহির বিন আলম প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শাকসু নির্বাচন নিয়ে তিনজন শিক্ষার্থী হাইকোর্টে রিট করায় নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে চেম্বার আদালতে আপিল করা হয়েছে। আদালত আপিলের শুনানির সময় ও তারিখ কিছু জানাননি।

অধ্যাপক জহির বিন আলম আরও বলেন, ‘আমরা শিক্ষা ও প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে আবার আবেদন করা হবে। চেম্বার আদালত সিদ্ধান্ত দিলে আমরা পরের দিনই নির্বাচন আয়োজন করব। কারণ নির্বাচন কমিশনের সব প্রস্তুতি নেওয়া আছে।’

এর আগে রাত সাড়ে আটটায় সিন্ডিকেটের জরুরি বৈঠক শুরু হয়। তা শেষ হয় রাত সাড়ে নয়টায়। রাত সাড়ে ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ বৈঠক শেষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাঁদের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে জানিয়েছেন।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় এ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা ছিল। তবে দুজন প্রার্থী ও একজন শিক্ষার্থীর রিটের পরিপ্রেক্ষিতে আজ হাইকোর্ট চার সপ্তাহের জন্য এ নির্বাচন স্থগিত করেছেন।

শাকসু নির্বাচন স্থগিতের পরপরই ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বেলা তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচনের দাবিতে মিছিল করেন। এতে সড়কের দুই পাশে তীব্র যানজট দেখা দেয়। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আন্দোলনরতরা অবরোধ প্রত্যাহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

আরও পড়ুন

এর আগে আজ সকাল সোয়া ১০টা থেকে শাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা রিটের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেল, ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেল, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলন চলাকালে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সহ-উপাচার্য মো. সাজেদুল করিম ও কোষাধ্যক্ষ মো. ইসমাইল হোসেনসহ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। আজ রাত সাড়ে ১০টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা অবরুদ্ধ ছিলেন।

আরও পড়ুন