ফরিদপুরে সেচ নিয়ে বিরোধের জেরে টর্চ জ্বালিয়ে বসতবাড়িতে হামলা, আহত ৯
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় পেঁয়াজের জমিতে সেচ দেওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সময় টর্চলাইট জ্বালিয়ে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় জড়ায়। এ সময় অন্তত ছয়টি বসতবাড়িতে হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। ভাঙচুরের পাশাপাশি কয়েকটি বাড়িতে লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে সংঘর্ষে জড়ান স্থানীয় বাসিন্দা নুরু মাতুব্বর ও জাহিদ মাতুব্বরের সমর্থকেরা। খবর পেয়ে পুলিশ ও সালথা সেনা ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এলাকাবাসী জানান, বালিয়া গ্রামে প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই নুরু মাতুব্বর ও জাহিদ মাতুব্বরের মধ্যে বিরোধ চলছিল। তাঁরা দুজনই আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর সম্প্রতি দুজনই বিএনপিতে যোগ দেন। যদিও কোনো দলেই তাঁদের বড় কোনো পদ নেই; তবে গ্রাম্য রাজনীতিতে প্রভাব ও অনুসারী থাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাঁদের কাছে টানার চেষ্টা করে।
স্থানীয় মানুষের ভাষ্য, বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে একাধিকবার সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় দুজনই আগে কারাভোগ করেছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলমান বিরোধের মধ্যেই গতকাল বিকেলে বালিয়া গ্রামের পেঁয়াজের জমিতে সেচ দেওয়া নিয়ে জাহিদ মাতুব্বরের সমর্থক শহীদ শরীফের সঙ্গে নুরু মাতুব্বরের সমর্থক জাহিদ শরীফের হাতাহাতি হয়। এর জেরে সন্ধ্যার পর বালিয়া বাজারে উভয় পক্ষের সমর্থকেরা দেশি অস্ত্র নিয়ে জড়ো হন। পরে রাত সাড়ে আটটার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বলেন, বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।