নদীর দুই পাশে সদর উপজেলার গোপালপুর, হাজিডাঙ্গা, সুতি, কোটচাঁদপুরের তালসার, ঘাঘাসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম রয়েছে। তালসার বাজারে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলোতে অসংখ্য ছেলেমেয়ে পড়ালেখা করে। যাদের অনেকে সাঁকোটি নিয়মিত পারাপার হতো।

সরেজমিনে বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সেখানে সুতি গ্রামের মফিজ উদ্দিনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ২০০৭ সালে তিন গ্রামের মানুষ স্বেচ্ছাশ্রম ও আর্থিক সহায়তায় সাঁকোটি নির্মাণ করেছিলেন। এতে সদর উপজেলা ছাড়াও পাশের উপজেলা কোটচাঁদপুরের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগব্যবস্থাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে তালসার বাজারের সঙ্গে সংযোগ হওয়ায় তাঁরা অনেক উপকৃত হয়েছিলেন।

তালসার জিটি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী সুতি গ্রামের রিংকি খাতুন বলেন, তাঁরা হেঁটে সাঁকো পার হয়ে কলেজ করেছেন। কোনো খরচ লাগত না। সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় এক মাস ধরে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা হেঁটে তারপর ভ্যানে করে কলেজে যেতে হয়। এতে প্রতিদিন তাঁর ৪০ থেকে ৫০ টাকা খরচ হয়, যা তার পরিবারের পক্ষে বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া হাঁটা পথটি তাঁদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।  তাঁরা বাসের সাঁকো মেরামতসহ একটি সেতু নির্মাণের মাধ্যমে এলাকার মানুষের সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান।

এলাকাবাসী জানান, সাঁকোটি দিয়ে পারাপার হতেন অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় এখন সবাই বিপাকে আছেন। তাঁরা দ্রুত সাঁকোটি মেরামতের দাবি জানাচ্ছেন।

জিটি কলেজের অধ্যক্ষ আব্বাস আলী বলেন, তাঁদের কলেজে মোট ৩১ জন ছাত্রছাত্রী সাঁকো পার হয়ে পড়তে আসেন। যার মধ্যে একাদশ শ্রেণির ১২ জন, দ্বাদশের ৭ জন, ৫ জন ডিগ্রি এবং ৭ জন কারিগরি শাখার শিক্ষার্থী।

এ ছাড়া পাশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও ১০–১২ জন ছাত্রছাত্রী সাঁকো পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসে। সাঁকো ভেঙে পড়ে থাকায় তারাও বিপাকে আছে। তিনি আরও বলেন, সাঁকো মেরামতের জন্য তাঁরা শিক্ষকেরা উদ্যোগ নিয়েছেন, অর্থ জোগাড় হলেই কাজ শুরু করবেন।

সাঁকো ভেঙে পড়ে থাকার বিষয়টি শুনেছেন বলে জানান ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মধুহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলতাফ পারভেজ।

কোটচাঁদপুরের কুশনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শাহাদুজ্জামান সবুজ বলেন, গতকাল সাঁকো মেরামত কাজ শুরু করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান মাসুম বিল্লাহ বলেন, সেতু ভাঙার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তবে সরেজমিন দেখে ব্যবস্থা নেবেন।