সাবেক ইউপি সদস্য বাড়িতেই পালছিলেন বিলুপ্তপ্রায় ভালুক ও হরিণ, খবর পেয়ে উদ্ধার

খাগড়াছিতে সাবেক ইউপি সদস্যর বাড়িতে পালন করা হচ্ছিল বিলুপ্তপ্রায় ভালুক। পরে উদ্ধার করে বন বিভাগ। আজ জেলার সদর উপজেলার তেঁতুল তলা এলাকা থেকে তোলাছবি: প্রথম আলো

খাগড়াছড়িতে একটি বাড়ি থেকে বিলুপ্তপ্রায় এশিয়াটিক ব্ল্যাক বিয়ার (কালো ভালুক), মায়া হরিণ, বানরসহ ৯টি বন্য প্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে খাগড়াছড়ি সদরের তেঁতুলতলা এলাকা থেকে বন বিভাগ, বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ যৌথভাবে এসব উদ্ধার করে।

উদ্ধার হওয়া প্রাণীর মধ্যে রয়েছে একটি এশিয়াটিক ব্ল্যাক বিয়ার, ছয়টি মায়া হরিণ ও দুটি বানর। উদ্ধার শেষে এগুলোকে কক্সবাজারের ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের প্রাকৃতিক বনে অবমুক্ত করার জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।

বন বিভাগ জানায়, প্রাণীগুলো খাগড়াছড়ি সদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য নবদ্বীপ চাকমার বাড়িতে ছিল। ভুল বুঝতে পেরে তিনি নিজেই এসব প্রাণীর বিষয়ে বন বিভাগকে জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, এসব প্রাণী তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে কিনেছেন। পরে ভুল বুঝতে পেরে বন বিভাগকে জানিয়েছেন।

জানতে চাইলে নবদ্বীপ চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, বনে গিয়ে অনেকেই এসব প্রাণী শিকার করতেন। খবর পেয়ে তিনি শিকারিদের কাছ থেকে প্রাণীগুলো কিনেছিলেন। পরে নিজেই লালন–পালন করতেন। এরপর প্রাণীগুলোকে নিরাপদ পরিবেশ দেওয়ার জন্য তিনিই বন বিভাগকে জানান।

ইউপি সদস্যর বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া মায়া হরিণ। আজ খাগড়াছড়ির জেলার সদর উপজেলার তেঁতুল তলা এলাকা থেকে তোলা
ছবি: প্রথম আলো

খাগড়াছড়ি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা বলেন, বন্য প্রাণী ধরা অপরাধ। যিনি এত দিন প্রাণীগুলো লালন–পালন করেছেন, তিনি তাঁর ভুল বুঝতে পেরেছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে জড়াবেন না বলে আশ্বাস দিয়েছেন। বন্য প্রাণী সুরক্ষায় বন বিভাগের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

মো. ফরিদ মিঞা বলেন, মানুষের যেমন বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে, তেমনি বন্য প্রাণীরও প্রকৃতিতে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। বন্য প্রাণী প্রকৃতির অলংকার। বন উজাড় ও অবৈধ শিকারের কারণে এসব প্রাণী দিন দিন বিলুপ্তির পথে। এখনই সচেতন না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম প্রকৃতিতে এসব প্রাণী দেখতে পাবে না।