জঙ্গল সলিমপুরে উচ্ছেদের গুজবে বিক্ষোভ, ভিডিও ফেসবুকে

জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগরে পুলিশের অবস্থান। আজ দুপুরেছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে উচ্ছেদের গুজবে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আজ শুক্রবার দুপুরে আলীনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বাসিন্দাদের সঙ্গে পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে পুলিশ তাঁদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া প্রায় দেড় মিনিটের একটি ভিডিওতে বিক্ষোভকারীদের বলতে শোনা যায়, ‘নিজের টাকা দিয়ে জায়গা কিনেছি, সেই জায়গা ফেরত চাই।’ ভিডিওতে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লাঠি হাতে বিক্ষোভকারীদের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।

এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলতে যান চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম। এ সময় নারীসহ একদল বাসিন্দা প্রচারপত্র হাতে সেখানে জড়ো হন। সরকারি স্থাপনা নির্মাণের জন্য তাঁদের কেনা জমি ও বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে তাঁরা প্রতিবাদ জানান।

জানতে চাইলে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রথম আলোকে বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার সেখানে যাওয়া হয়। তবে সন্ত্রাসী মো. ইয়াসিনের লোকজন এলাকায় গুজব ছড়ান যে বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করতে সরকারি লোকজন এসেছেন। এ গুজবে বিশ্বাস করে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ শুরু করেন।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, বাসিন্দাদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হয়েছে। ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি সরকারি প্রয়োজনে অধিগ্রহণ করা হলে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আর যাঁরা খাসজমিতে বসবাস করছেন, তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না করে সরকার উচ্ছেদ করবে না। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে বলে দাবি করেন তিনি।

৮ অক্টোবর সচিবালয়ে জঙ্গল সলিমপুরের অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে এক সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, রাজশাহীর সারদার আদলে সেখানে একটি পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই এলাকায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ জন্য ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সেখানে পুলিশ ছাড়াও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) স্থাপনা নির্মাণের জন্য জায়গা নেওয়ার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।