কলাপাড়ায় নির্মাণাধীন চার লেন সেতুর শাটার ভেঙে নির্মাণশ্রমিক নিহত

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পায়রা বন্দরের পাশে নির্মাণাধীন চার লেনের এক্সট্রাডোজড কেবল সেতুর শাটার ভেঙে নিচে পড়ে যায়ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা বন্দরের কাছে আন্ধারমানিক নদের ওপর নির্মাণাধীন চার লেনের এক্সট্রাডোজড কেব্‌ল সেতুর শাটার ভেঙে রাসেল হাওলাদার (২৬) নামের এক নির্মাণশ্রমিক নিহত হয়েছেন। আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে সেতুর শাটারিংয়ের কাজ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও তিনজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহত রাসেল হাওলাদারের বাড়ি কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের অঞ্জুপাড়া গ্রামে। আহত শ্রমিকেরা হলেন গাইবান্ধার মো. আলম (৪০) ও রঞ্জু (৩৫) এবং শেরপুরের বাসিন্দা রাকিবুল হাসান (৩৫)। তাঁদের মধ্যে আলমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং রঞ্জু ও রাকিবুলকে বরিশাল শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মোহাম্মদ কাইয়ুম ও ইমরান নামের দুজন শ্রমিক বলেন, আজ সকাল থেকে তাঁরা নির্মাণাধীন চার লেন সেতুর কাজ করছিলেন। কলাপাড়ার টিয়াখালী ইউনিয়নের ইটবাড়িয়া ও লালুয়া ইউনিয়নের চিংগড়িয়া গ্রামকে যুক্ত করে আন্ধারমানিক নদের ওপর সেতুটি নির্মিত হচ্ছে। সেতুর পূর্ব পাশে শাটারিংয়ের কাজ করার সময় হঠাৎ শাটার ভেঙে নিচে পড়লে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই রাসেল হাওলাদার মারা যান। এতে আরও তিনজন শ্রমিক আহত হন। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে অন্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা আবদুল মালেক প্রথম আলোকে বলেন, রাসেল হাওলাদার নামের ওই শ্রমিক ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাঁর শরীরে মারাত্মক ক্ষত ও মাথায় গুরুতর জখম হয়েছে। আহত রঞ্জু ও রাকিবুলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আলম নামের অন্য শ্রমিককে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চায়না রেলওয়ে ব্রিজ কনস্ট্রাকশন গ্রুপ (সিআরবিজি) ও চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন লিমিটেড (সিসিইসিসি) সেতুটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে। এক হাজার ১৮০ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির নির্মাণকাজ ২০২৬ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা আছে।