পঞ্চগড়ে চিতা বাঘের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট

পঞ্চগড়ে আটোয়ারীর দারখোর সীমান্ত থেকে গতকাল সকালে একটি ‘মৃত’ চিতা বাঘ উদ্ধার করা হয়ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়ে আটোয়ারীতে চিতা বাঘের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বন অধিদপ্তরের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট গঠিত তদন্ত কমিটি। তারা এলাকাবাসী, বন বিভাগের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এবং ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত সংগ্রহ করেছে। আজ শনিবার দুপুরে ভারত সীমান্তঘেঁষা দারখোর এলাকায় বন্য প্রাণী পরিদর্শক অসীম মল্লিকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এর আগে গতকাল শুক্রবার সকালে দারখোর পুরোনো ঈদগাহ মাঠের পাশে নাগোর নদের পাশে ৪০৪ নম্বর সীমান্ত পিলারের ১ নম্বর সাবপিলার এলাকার শূন্যরেখা থেকে মৃত অবস্থায় চিতা বাঘটি উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করেন এলাকাবাসী ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা। ওই দিন বিকেলে আটোয়ারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে চিতা বাঘটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

এদিকে বাঘটিকে জাল দিয়ে আটক করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বাঘটি মৃত অবস্থায় পাওয়ার দাবি করা হলেও ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েক ব্যক্তি হাতে লাঠি নিয়ে নদীর ধারে থাকা বাঘটিকে তাড়া করছেন। বাঘটি লুকানোর চেষ্টা করলে ওই ব্যক্তিরা একটি বড় জাল দিয়ে বাঘটিকে আটকে লাঠি দিয়ে আঘাত করছেন। একপর্যায়ে বাঘটি নদীর পানিতে পড়ে সাঁতার কাটার চেষ্টা করে। পরে লোকজন জাল নিয়ে পানিতে নেমে বাঘটিকে আটকে ওপরে তোলেন। তখন বাঘটি অনেক দুর্বল হয়ে যায়।

বন্য প্রাণী পরিদর্শক অসীম মল্লিক প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা যতটুকু বুঝলাম, বাঘটিকে শ্বাসরোধে মারা হয়েছে। যাঁরা জাল ফেলে বাঘটি ধরেন, তাঁরা জাল ফেললে বাঘটি পানির মধ্যে লাফ দিয়ে পড়ে। এরপর তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। চিতাটি পানিতে নেমে গেলে জাল দিয়ে পেঁচিয়ে ফেলা হয়। হয়তো পানির নিচে দুই-তিন মিনিটের মতো রাখায় শ্বাসরোধে বাঘটি মারা যায়। যেহেতু গায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল না। বাঘটিকে জাল দিয়ে জড়িয়ে পানিতে ফেলে দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছি। জালের আলামতও সংগ্রহ করেছি। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।’

এর আগে ময়নাতদন্তের পর আটোয়ারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘ময়নাতদন্তে তেমন কিছুই পাওয়া যায়নি। আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার। আমরা মৃত বাঘটি বন বিভাগের কাছে দিয়ে দেব। তারা সেটিকে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে নিয়ে যাবে। সেই সঙ্গে আমরা নমুনাও তাদের হাতে তুলে দেব পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য। ভিসেরা পরীক্ষা ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ বোঝা যাবে না। আমাদের উপজেলা লেভেলে তেমন সেটআপ নেই।’

এদিকে বাঘ মারা যাওয়ার প্রকৃত কারণ জানতে আটোয়ারী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গতকাল উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।