সংসদ নির্বাচনে পরাজিত মোতাহার হোসেন হলেন ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান

মোতাহার হোসেন তালুকদাছবি: সংগৃহীত

নবগঠিত ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মউক) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মোতাহার হোসেন তালুকদার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সরকার তাঁকে এ দায়িত্ব দেয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখার উপসচিব গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপন গতকাল রাতে জারি করা হয়। এতে বলা হয়, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০২৬-এর ধারা ৮(১) অনুযায়ী মোতাহার হোসেন তালুকদারকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (গ্রেড-২) পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মুঠোফোনে মোতাহার হোসেন তালুকদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর যে বিশ্বাস রেখেছেন এবং ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন, সেই মান রাখতে কাজ করে যাব। তিনি আগেও জনগণের রাজনীতি করার জন্য আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন।’

মোতাহার হোসেন আরও বলেন, ‘আমরা ময়মনসিংহবাসীর জন্য কিছু কাজ করতে চাই। এই শহরটাকে একটা পরিকল্পিত শহর এবং ব্রহ্মপুত্র নদের ওই পারে যে এলাকাটা আছে, সেটাকেও কাজে লাগিয়ে মানুষের মনমতো একটা সুন্দর শহর গড়তে চাই। আমরা একটা পরিকল্পিত নগরী এবং মনোরম সিটি গড়তে চাই, যেটা দৃষ্টিনন্দন ও মানুষের নজর কাড়বে। বাইরে থেকে যেকোনো লোক ময়মনসিংহ শহরে আসবে কিংবা ময়মনসিংহ জেলায় ঢুকবে, তখন বুঝবে যে এটা ময়মনসিংহ। ও রকম একটা সিটি আমরা প্রতিষ্ঠা করব, ইনশা আল্লাহ।’

এর আগে গত ১২ জানুয়ারি ‘ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ’ গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। ময়মনসিংহ মহানগর ও আশপাশের এলাকার ভূপ্রাকৃতিক পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধ, পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, দুর্যোগ-সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, তথ্যপ্রযুক্তি ও পর্যটনশিল্পের বিকাশ, উন্নত নাগরিক জীবন নিশ্চিত করা এবং মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়। এটি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হবে।