মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পর আঙুলে অমোচনীয় কালি দেওয়া, গোপন কক্ষে গিয়ে ব্যালটে সিল এবং ব্যালট বাক্সে জমা দেওয়া পর্যন্ত একজন ভোটারের আড়াই থেকে তিন মিনিট সময় লাগছে। ফলে ভোটারদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আসনটির দুটি কেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
আজ সকাল সাড়ে আটটা থেকে সোয়া নয়টার মধ্যে মুন্সিগঞ্জ মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তর ইসলামপুর এলাকায় পিটিআই পরীক্ষণ বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে দেখা যায়, দুটি পুরুষ ও দুটি নারী ভোটকক্ষের বাইরে ভোটারদের ভিড়। সেখান থেকে ধীরে ধীরে তাঁরা ভোটকক্ষের দিকে যাচ্ছেন। এরপর তাঁরা সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং এজেন্টদের কাছে পরিচয় নিশ্চিত করে গোপন কক্ষে গিয়ে ভোট দিচ্ছেন। নারী ভোটকক্ষে ভোট দিতে সময় লাগছে প্রায় তিন মিনিট থেকে ৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড এবং পুরুষ ভোটকক্ষে সময় লাগছে গড়ে আড়াই মিনিট।
উত্তর ইসলামপুর এলাকার ভোটার সোহাগ বলেন, ‘এর আগের নির্বাচনে একটি ভোট দিয়েছিলাম। আজ একসঙ্গে দুটি ভোট দিয়েছি। আগের চেয়ে সময় বেশি লাগছে।’
একই কেন্দ্রের ভোটার রাজিয়া বেগম (৭০) বলেন, ‘“হ্যাঁ” ভোট আর “না” ভোট কী—আমি ভালো বুঝি না। ভোট দিতে গিয়ে সময় বেশি লাগছে।’
সকাল পৌনে ১০টার দিকে যোগিনীঘাট কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, ভোটারদের দীর্ঘ লাইন আছে। ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিলেও এখানেও ভোট দিতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগছে।
যোগিনীঘাট কেন্দ্রের ভোটার সাইফুল ইসলাম বলেন, একসঙ্গে দুটি ভোট হচ্ছে—একটি প্রার্থীর জন্য, আরেকটি গণভোটের জন্য। গণভোট সম্পর্কে অনেক ভোটার ভালোভাবে জানেন না। এ কারণে সময় বেশি লাগছে। পাশাপাশি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদেরও আনুষঙ্গিক কাজ করতে সময় লাগছে।
যোগিনীঘাট কেন্দ্রের পুরুষ অংশে মোট ভোটার ২ হাজার ৫৩১ জন। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সেখানে সাড়ে ৬০০-এর বেশি ভোট পড়েছে।
কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শহিদুল হক বলেন, গণভোট সম্পর্কে অনেক ভোটার পরিষ্কার ধারণা না থাকায় তাঁরা ভোটকক্ষ থেকে বের হয়ে এসে কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইছেন। এতে সময় কিছুটা বেশি লাগছে। তবে ভোটার উপস্থিতি ভালো।
শহীদুল হকের ভাষ্য, ‘যত সময় লাগুক, কেন্দ্রে আসা প্রত্যেক ভোটারের ভোট নেওয়া হবে।’