যশোরে দুই বিচারকের আদালত বর্জনের ঘোষণা আইনজীবী সমিতির

যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির জরুরি বৈঠকে দুইজন বিচারকের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ‌ গতকাল বুধবার দুপুরেছবি: প্রথম আলো

যশোর আদালতের ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীন এবং যুগ্ম জেলা জজ রাশেদুর রহমানের আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতি। গতকাল বুধবার দুপুরে সমিতির জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হকের অভিযোগ, ‘যশোরের মতো প্রাচীন আদালতে পাঁচ মাস ধরে জেলা ও দায়রা জজের পদ শূন্য রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত জেলা জজ হিসেবে দায়িত্বে থাকা আইরিন পারভীন এবং যুগ্ম জেলা জজ রাশেদুর রহমানের মধ্যে বিচারিক মানসিকতার অভাব রয়েছে। বিচারকার্যে তাঁদের খামখেয়ালি মনোভাব প্রতীয়মান হচ্ছে। অন্তত ২০০ আইনজীবীর এ বিষয়ে লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি বৈঠক ডেকে দুজনের আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমাদের সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।’

আইনজীবীদের ভাষ্য, জেলা ও দায়রা জজ পদ শূন্য থাকায় যশোর আদালতে আপিল শুনানি ও রিট পিটিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিচারকাজ বন্ধ আছে। জেলা জজের পূর্ণ ক্ষমতা না থাকায় ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ পূর্ণাঙ্গ আইনি সেবা দিতে পারছেন না। এতে আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে সেবা প্রত্যাশীদের ওপর। এ ছাড়া ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আইরিন পারভীনের আচরণ বিচারিকসুলভ নয়। তাই আইনজীবীরা কোনোভাবেই তাঁর এজলাসে অংশ নেবেন না।

আদালত বর্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ গফুর আজ বৃহস্পতিবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা গতকাল বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দুই বিচারকের আদালতে আইনজীবীদের কেউ যাবে না। আজ থেকে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে। সমিতির সিদ্ধান্ত চিঠির মাধ্যমে মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক এম এম মোর্শেদ বেশ কিছুদিন ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজের দায়িত্ব পালন করলেও তিনি গত সপ্তাহে ঢাকায় বদলি হন। এরপর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক আইরিন পারভীনকে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়।