গতকাল শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়ক ধরে এগোলো বাঁ দিকে পদ্মার পাড় ঘেঁষেই বিশাল কর্মযজ্ঞে মাথা তুলেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প। এর ঠিক ডানেই পাশাপাশি লালনশাহ সেতু ও হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। ঈশ্বরদী শহর রক্ষা বাঁধ থেকেই কুষ্টিয়ামুখী সেতু দুটি ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। পায়ে হেঁটে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে নামলেই পদ্মার পাড়। বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে পাড়ে। ভাঙছে ব্রিজের তলদেশ। কিছুক্ষণ পরপর বড় বড় মাটির স্তূপ ধসে পড়ছে নদীতে। বিলীন হচ্ছে নদীপাড়ের ফসলি জমি। নদী চলে এসেছে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ২ নম্বর পিলার পর্যন্ত। আর কিছুটা ভাঙলেই ছুঁয়ে যাবে শহর রক্ষা বাঁধ।

মাত্র ৭ দিনের ব্যবধানে মাটিতে থাকা হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ৩ নম্বর পিলার নদীর মধ্যে চলে গেছে। বর্তমানে ব্রিজের ২ নম্বর পিলার এলাকায় ভাঙন চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৪০ বছরে তাঁরা নদীপাড়ে এমন ভাঙন দেখেননি। এবারই প্রথম নদীর পানি বৃদ্ধি ও কমার সময় তীব্র ভাঙন সৃষ্টি হচ্ছে। মাত্র ৭ দিনের ব্যবধানে মাটিতে থাকা হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ৩ নম্বর পিলার নদীর মধ্যে চলে গেছে। বর্তমানে ব্রিজের ২ নম্বর পিলার এলাকায় ভাঙন চলছে। এভাবে ভাঙন চলতে থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ২ নম্বর পিলারও নদীতে চলে যাবে। এখনই ভাঙন রোধ করা না গেলে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালনশাহ সেতুসহ ঈশ্বরদী শহর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজ উদ্দিন বলেন, মাসখানেক আগে থেকেই এই ভাঙন শুরু হয়েছে। কয়েক দিন নদীর পানি স্থির থাকায় ভাঙন কম ছিল। নদীর পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আবার ভাঙন শুরু হয়েছে। পাউবো ও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কয়েক দফা নদীর পার পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু ভাঙন রোধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

default-image

মমিনুর রহমান নামের এক প্রবীণ বলেন, প্রতিবছরই অল্পস্বল্প নদী ভাঙে। কিন্তু এবার নদীতে স্রোত বেশি। ফলে ভাঙন বেশি হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই ভাঙন কাল হয়ে দাঁড়াবে।

নিয়ামত আলী নামের এক কৃষক বলেন, ‘হার্ডিঞ্জ ব্রিজের তলে চরে আখ, কলা আবাদ হতো। বেবাক জমিন এহন নদীত চলে গেছে। কবে যেনি ব্রিজটেও ভাঙে যাবি।’

এ প্রসঙ্গে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় সেতু প্রকৌশলী নাজিব কাওছার বলেন, হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচের পিলারের আশপাশ নদীতে চলে গেলে ব্রিজের কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ, পিলারগুলো নদীর গভীরে পাইলিং করে স্থাপন করা। তবে ভাঙন রোধে আমরা একাধিকবার পাউবোর সঙ্গে বৈঠক করেছি। নদীপাড় পরিদর্শন করে ভাঙন রোধে যৌথভাবে একটি নকশা তৈরি করা হয়েছে। নকশা অনুযায়ী দ্রুতই ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পাউবো আশ্বাস দিয়েছে।

পাউবো পাবনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সরোয়ার জাহান বলেন, ভাঙন রোধে গত বছর নদীর পাড়ে জিও ব্যাগ (বালুভর্তি বস্তা) ফেলা হয়েছিল। এবার হঠাৎ আবার ভাঙন শুরু হয়েছে। পানি কিছুটা কমলেই আবার জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হবে। এতে ভাঙন রোধ হবে বলে আশা করছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন