কুষ্টিয়ায় বিএনপির ‘মনোনয়নবঞ্চিত’ নেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঐক্য ফেরানোর চেষ্টা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণার পর কুষ্টিয়ার দুটি সংসদীয় আসনে দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সেই কোন্দল মেটানোর উদ্যোগ নিয়েছে জেলা বিএনপি। এর অংশ হিসেবে গতকাল রোববার ও আজ সোমবার বিএনপির মনোনয়ন চেয়ে না পাওয়া নেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বৈঠক করেছেন দলীয় প্রার্থী ও জেলার শীর্ষ নেতারা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর ও ভেড়ামারা) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন রাগীব রউফ চৌধুরী। এই আসনে শক্ত মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম। দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে এই নেতা ও তাঁর অনুসারীরা আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। মনোনয়ন পেতে মাঠে ছিলেন সোচ্চার। দীর্ঘ মানববন্ধন, অনশন, বিক্ষোভ মিছিল–সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি দিয়েছিলেন। তারপরও তিনি মনোনয়ন পাননি। নির্বাচন করার জন্য মনোনয়নপত্র উত্তোলন করলেও শেষ পর্যন্ত তিনি জমা দেননি।
দলীয় নেতা-কর্মীরা বলছেন, মিরপুর ও ভেড়ামারা উপজেলার সব পর্যায়ের কমিটির শীর্ষ নেতাদের অধিকাংশই শহীদুল ইসলামের অনুসারী। শহীদুল ইসলামের বাইরে নেতা-কর্মীরা কোনো সিদ্ধান্ত নেন না। ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হলে শহীদুল ইসলামের অনুসারীদের মাঠে নামাতে হবে।
এমন অবস্থায় সোমবার সকালে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া রাগীব রউফ চৌধুরী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন, সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকারসহ শীর্ষ নেতাদের নিয়ে মিরপুর ও ভেড়ামারায় যান। তাঁরা শহীদুল ইসলামসহ দুটি উপজেলার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ রকম কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
জানতে চাইলে রাগীব রউফ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটা তেমন কিছু নয়। সবার সঙ্গে কুশল বিনিময় হলো। সবাই একসঙ্গে মাঠে কাজ করার কথা হয়েছে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে সবাই ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় নামবেন।’
যোগাযোগ করা হলে সাবেক সংসদ সদস্য শহীদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘তিনিই তো (রাগীব রউফ চৌধুরী) দলের মধ্যে বিরোধ তৈরি করে রেখেছেন। দলের নেতা-কর্মীদের যদি সঠিক মূল্যায়ন করা হয়, তবে সবাই কাজ করবে। দিন শেষে আমরা সবাই ধানের শীষের।’
এদিকে রোববার দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হয়। সেখানে সাবেক সংসদ সদস্য ও দলীয় প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীর মনোনয়নপত্র বৈধ হলেও বাতিল হয় বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম আনছারের। তিনি দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। নুরুল ইসলাম কুমারখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং সাবেক পৌর মেয়র। তিনি দলীয় মনোনয়ন পেতে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন।
রোববার রাতেই নুরুল ইসলাম আনছারের বাড়িতে যান বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ। এ সময়ও তাঁর সঙ্গে দলটির জেলা কমিটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভাও হয়। কয়েকজন নেতাও বক্তব্য দেন। একপর্যায়ে মেহেদী আহমেদ ও নুরুল ইসলাম একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। এ রকম ছবি রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ওই বৈঠকে থাকা এক নেতা বলেন, দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। সবাই মিলে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে অচিরেই সবাই মাঠে নামবেন।
জানতে চাইলে সোমবার বিকেলে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের দলীয় প্রার্থী জাকির হোসেন সরকার প্রথম আলোকে বলেন, কুষ্টিয়ার দুটি আসনের নির্বাচনী এলাকায় ঐক্যবদ্ধভাবে দলগত নির্বাচন পরিচালনার সংকল্প নিয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির উদ্যোগে নেতাদের বাড়ি যাওয়া হয়। প্রার্থীদের নিয়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য শহীদুল ইসলামের সঙ্গে সফল বৈঠক হয়েছে। এ ছাড়া সাবেক পৌর মেয়র নুরুল ইসলামের সঙ্গে সফল বৈঠক হয়েছে। সবাই নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিতের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।