নোয়াখালীতে চাকরিচ্যুতির প্রতিবাদে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সড়ক অবরোধ
নোয়াখালীতে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘হোসাফ পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেডের’ দুই প্রকৌশলীসহ ছয় কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেছেন প্ল্যান্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় সড়কের মাঝখানে গাছের গুঁড়ি ফেলে যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে তাঁরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে জেলার বেগমগঞ্জের মীর ওয়ারিশপুরের ১১৩ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্টের সামনে নোয়াখালী-কুমিল্লা মহাসড়কে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় সড়কে প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরে খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষুব্ধ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযোগ করেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এই প্ল্যান্টে চাকরি করছেন। কিন্তু বিগত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে তাঁদের বেতন অনিয়মিত হয়ে যায়। একইভাবে ঠিকমতো ঈদ বোনাসও দেওয়া হয়নি। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে সমস্যার সমাধান না করে উল্টো বিনা নোটিশে কর্মচারী ছাঁটাই শুরু হয়। নিয়মিত বেতন-ভাতা না পাওয়ায় চিকিৎসার অভাবে কিছুদিন আগে প্ল্যান্টের এক কর্মচারী মারা যান। তাঁরা নিহত শ্রমিকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ প্ল্যান্টের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন।
কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, আজ সকালে তাঁরা প্ল্যান্টের গেটে এলে জানতে পারেন, কোনো ধরনের পূর্বনোটিশ ছাড়াই দুজন প্রকৌশলীসহ ছয়জন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্ল্যান্ট ইনচার্জও কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তাই তাঁরা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে নেমেছেন এবং সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। তাঁরা জানান, বেতন–ভাতা নিয়মিতকরণসহ অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতদের পুনরায় চাকরিতে ফিরিয়ে না দিলে প্ল্যান্ট শাটডাউনসহ বড় ধরনের কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে শিফট ইঞ্জিনিয়ার মাজহারুল ইসলাম রিজভী বলেন, ‘সকালে প্ল্যান্টে এসে গেট দিয়ে ঢুকতেই দারোয়ান আমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতির চিঠি দেন। অথচ এর আগে আমাকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি।’
প্ল্যান্ট ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসাইন উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, তাঁদের ঢাকা অফিস থেকে আজ সকালে তাঁর কাছে ছয়জন স্টাফের অব্যাহতিপত্র পাঠানো হয়েছে। এরপর তিনি শুধু তাঁদের সেসব চিঠি দিয়েছেন। এর বাইরে তাঁর কিছু জানা নেই। আজ তাঁরা যে বিক্ষোভ করেছেন, এটিও তিনি ই-মেইল করে ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের জানিয়েছেন।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, প্ল্যান্টের স্টাফরা বেতন–ভাতার দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছিলেন। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ গিয়ে তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। প্ল্যান্টের ইনচার্জকে বলা হয়েছে, মালিকপক্ষের সঙ্গে যাতে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন।