‘একটি কিনলে একটি ফ্রি’ অফার দিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দম্পতি গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার দম্পতি জাহাঙ্গীর আলম ও আসমা শারমিন ওরফে আঁখিছবি: সংগৃহীত

‘একটি কিনলে একটি ফ্রি’—অফার দিয়ে সিলেট থেকে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ‘আঁখি সুপার শপ’-এর পরিচালক আসমা শারমিন ওরফে আঁখি (৩২) ও তাঁর স্বামী জাহাঙ্গীর আলমকে (৩৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

প্রায় সাড়ে চার বছর পর গতকাল রোববার রাতে রাজশাহী নগর থেকে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসমার বিরুদ্ধে ১৫টি ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে দুটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন

আসমা শারমিন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার গণিপুর ইউনিয়নের হাসনিপুর গ্রামের আশরাফ হোসেনের মেয়ে। তাঁর স্বামী জাহাঙ্গীর আলম পাবনার বেড়া উপজেলার পুনডুরিয়া গ্রামের সোলায়মান আলীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর আজ সকালে ওই নারীকে রাজশাহীর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জাহাঙ্গীরকে পাবনার বেড়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বাগমারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শিহাব উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ২০২২ সালে সিলেটে মামলা হওয়ার পর থেকে ওই নারী ও তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছিল। তাঁরা অন্যের নামে নিবন্ধিত মুঠোফোনের সিম ব্যবহার করে গাজীপুরে অবস্থান করতেন। সেখানে ‘এসএম ওয়েল মিলস’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করে অনলাইনে তেল বিক্রি শুরু করেন। এ ছাড়া অন্যের নামে নিবন্ধিত মুঠোফোন নম্বরে নগদ হিসাব খুলে টাকা লেনদেন করতেন।

সিলেট শহরতলির বটেশ্বর গইলাপাড়া এলাকায় আঁখি সুপার শপের কার্যালয় ছিল। প্রতিষ্ঠানটি ২০২১ সালের ১৩ নভেম্বর ‘একটি পণ্য কিনলে একই পণ্য আরেকটি ফ্রি তথা শতভাগ ক্যাশব্যাক’ শিরোনামে একটি অফার দেওয়া হয়।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, আসমা ও জাহাঙ্গীরের অবস্থান শনাক্ত করতে গিয়ে সম্প্রতি পিরোজপুরের হাফিজুর রহমানের নামে নিবন্ধিত একটি মুঠোফোন নম্বরের সন্ধান পাওয়া যায়। ওই নম্বর দিয়ে তাঁরা হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতেন। এ সূত্র ধরে অনুসন্ধান করে শেষ পর্যন্ত গতকাল রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

একাধিক মামলার এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, আঁখি সুপার শপের ফেসবুক পেজে বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে ‘একটি কিনলে একটি ফ্রি’ বা ‘শতভাগ ক্যাশব্যাক’–এর প্রচারণা চালানো হতো। এসব প্রচারণায় আকৃষ্ট হয়ে গ্রাহকেরা বিভিন্ন পণ্য কেনার জন্য নগদ টাকা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবেও টাকা জমা দেন। পরে পণ্য না দিয়ে ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে আঁখি ও তাঁর সহযোগীরা টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যান।

পুলিশ ও গ্রাহকদের অভিযোগ, এভাবে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাহকের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছিল। তবে টাকার পরিমাণের বিষয়ে পুলিশ ও গ্রাহকদের দেওয়া তথ্যের মধ্যে নির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি।

পুলিশ ও গ্রাহকদের অভিযোগ, এভাবে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাহকের কাছ থেকে ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছিল। তবে টাকার পরিমাণের বিষয়ে পুলিশ ও গ্রাহকদের দেওয়া তথ্যের মধ্যে নির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া যায়নি।

সিলেট শহরতলির বটেশ্বর গইলাপাড়া এলাকায় আঁখি সুপার শপের কার্যালয় ছিল। প্রতিষ্ঠানটি ফেসবুক পেজে মোটরসাইকেল, ইলেকট্রনিক পণ্য ও বিভিন্ন গ্রোসারি পণ্যের ৩০ ও ৯০ দিনের প্যাকেজের প্রচারণা চালাত। ২০২১ সালের ১৩ নভেম্বর ‘একটি পণ্য কিনলে একই পণ্য আরেকটি ফ্রি তথা শতভাগ ক্যাশব্যাক’ শিরোনামে একটি অফার দেওয়া হয়। তবে ২৭ ডিসেম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় তালাবদ্ধ আছে বলে একাধিক গ্রাহক জানান।

প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর প্রতারিত গ্রাহকেরা তাঁদের টাকা ফেরত ও আসমা-জাহাঙ্গীরের গ্রেপ্তারের দাবিতে সিলেটে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। এ ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়।

আরও পড়ুন