নারায়ণগঞ্জে ডিপোর সামনে ট্যাংক-লরির দীর্ঘ সারি, চাহিদার সামান্য তেল মিলছে

তেল না পেয়ে ডিপোর বাইরে অপেক্ষায় লরির দীর্ঘ সারি। আজ সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকায় পদ্মা ও মেঘনা তেল ডিপোর সামনেছবি: দীপু মালাকার

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের প্রভাবে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতার মধ্যে নারায়ণগঞ্জে জ্বালানি তেলের ডিপোর সামনে শত শত ট্যাংক-লরির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সরকার ঘোষিত সীমার কারণে চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চালক ও সহকারীরা। ডিপোর নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের সদস্যরাও টহল দিচ্ছেন।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে অবস্থিত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের আওতাধীন পদ্মা অয়েল কোম্পানি ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড জ্বালানি তেলের ডিপো। এখান থেকে বাংলাদেশ বিমান, সামরিক বাহিনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া ফতুল্লায় আছে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ডিপো।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে পদ্মা ও মেঘনা অয়েল কোম্পানির ডিপোগুলোর প্রধান ফটকের সামনে জ্বালানি তেল নিতে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে শত শত ট্যাংক–লরি। দীর্ঘ সময় লাইনে থেকে ডিপো থেকে তাদের জ্বালানি তেল নিতে হচ্ছে।

ট্যাংক–লরি চালকদের অভিযোগ, অর্ধেক বেলা তেল উত্তোলন করতেই চলে যাচ্ছে। তারপরও চাহিদা অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছে না। সংকটের কারণে পাম্পগুলোতে যানবাহনের ভিড়ের পাশাপাশি ডিপোতেও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

ট্যাংক–লরি চালকদের অভিযোগ, অর্ধেক বেলা তেল উত্তোলন করতেই চলে যাচ্ছে। আজ সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকায় পদ্মা তেল ডিপোর সামনে
ছবি: দীপু মালাকার

শহরের চাষাঢ়া প্রান্তিক ফিলিং স্টেশনে রোববার সন্ধ্যায় পাঁচ হাজার লিটার অকটেন ও পাঁচ হাজার লিটার ডিজেল সরবরাহ করে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে অবস্থিত মেঘনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। সেই জ্বালানি তেলের মধ্যে অকটেন আজ সোমবার দুপুরেই শেষ হয়ে গেছে। সোমবার দুপুরে মেঘনা ডিপোতে তেল আনতে গেলে তাঁদের শুধু ৯ হাজার লিটার ডিজেল দিয়েছে। অকটেন দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন পাম্পের কর্মচারী মানিক।

সকাল থেকে লাইনে দীর্ঘ সময় থেকে দুপুরে মেঘনা ডিপো থেকে জ্বালানি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ডের চৌরঙ্গী পাম্পের ক্যাশিয়ার বিদ্যুৎ ব্যানার্জি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের চাহিদা ছিল দুই গাড়ি জ্বালানি। কিন্তু আমাদের ৯ হাজার লিটার ডিজেল এবং সাড়ে ৫০০ লিটার অকটেন দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, এই অর্ধেক পরিমাণ জ্বালানি তেল দ্রুত সময়েই শেষ হয়ে যাবে।

ডিপোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহাম্মদ আব্দুল বারিক। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, দুই ডিপোতে একজন উপপরিদর্শকের নেতৃত্ব ৫ জন করে মোট ১০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া সেখানে সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহলও থাকছে। নিরাপত্তা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।

ডিপোর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। সরকার নির্ধারিত বরাদ্দ অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। ছোট ছোট জাহাজেও চট্টগ্রাম থেকে তেল আসছে। তিনি বলেন, মানুষ অস্থিরতা থেকে হুজুগে তেলের জন্য পাম্পগুলোতে ভিড় করছে। ডিপোর নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন আছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র‍্যাবের টহল আছে।