শিল্পায়নের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করতে চান আবু আশফাক

ঢাকা-১ আসনে (দোহার–নবাবগঞ্জ) বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাকের ধানের শীষের পক্ষে ভোট চেয়ে প্রচার। সোমবার দুপুরে নবাবগঞ্জের বাগমারা স্কুল মার্কেটের সামনেছবি: প্রথম আলো

রাজধানী লাগোয়া সংসদীয় আসন ঢাকা–১। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আবু আশফাক। দিচ্ছেন নানা উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি। বলছেন, নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস–সংযোগ দিয়ে কলকারখানা স্থাপন করতে চান। যাতে বেকার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায়।

আবু আশফাক ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি। দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে তিনি ছাড়াও আরও পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির নাসির উদ্দিন মোল্লা, ইসলামী আন্দোলনের নুরুল ইসলাম, লেবার পার্টির শেখ মোহাম্মদ আলী, স্বতন্ত্র অন্তরা সেলিমা হুদা। জামায়াতের প্রার্থী নজরুল ইসলাম ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক। তিনি দীর্ঘ সময় আইনশাস্ত্র পড়তে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী সেলিমা হুদা সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী নাজমুল হুদার মেয়ে।

দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলাজুড়ে এসব প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণায় জমে উঠেছে নির্বাচনী পরিবেশ। প্রতিদিন প্রার্থীদের পক্ষে মাইকিং করা হচ্ছে। লিফলেট নিয়ে পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে দলীয় প্রতীকে ভোট চাইছেন প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকেরা। বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত নির্বাচনী ক্যাম্পে চলছে জমজমাট আড্ডা।

সরেজমিনে সোমবার দুপুরে নবাবগঞ্জের কয়েকটি এলাকায় ঘুরে বিএনপি প্রার্থীর গণসংযোগ থেকে জানা যায়, তিনি সবাইকে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দিতে কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান করছেন। সেই সঙ্গে জনগণের জন্য তাঁর উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরছেন।

উপজেলার বাগমারা বাজারে গণসংযোগকালে খন্দকার আবু আশফাক বলেন, তিনি নির্বাচিত না হলেও বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ঢাকা থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলার উন্নয়নে গ্যাস–সংযোগ দিতে কাজ করবেন। ইছামতি নদী খনন করে নৌযান চলাচলের ব্যবস্থা করবেন। যাতে কৃষি ও ব্যবসায়ী পণ্য পরিবহনে সুবিধা হয়। বিলুপ্ত হওয়া তাঁত চালু করে বেকার তাঁতিদের কাজে ফেরাবেন। পদ্মার ভাঙনরোধে স্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করবেন। এ ছাড়া দোহার ও নবাবগঞ্জের চরাঞ্চলে প্রভাবশালীদের দখলে থাকা খাসজমি উদ্ধার করে ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দের ব্যবস্থা করবেন।

খন্দকার আবু আশফাকের গণসংযোগে ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানের মেয়ে মেহনাজ মান্নান। তিনি বলেন, এলাকার ছেলেমেয়েদের কর্মমুখী শিক্ষার জন্য কারিগরি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে, যাতে শিক্ষিত বেকার তৈরি না হয়। এ প্রতিষ্ঠান গড়তে প্রার্থীর পক্ষে তাঁর ব্যক্তিগত জমি দান করারও প্রতিশ্রতি দেন মেহনাজ।

বাগমারা বাজারের ব্যবসায়ী মো. জহির হোসেন বলেন, আবু আশফাক একজন নিবেদিত রাজনৈতিক ব্যক্তি। তিনি সব সময় মাঠে থেকেই দলের জন্য কাজ করেছেন। তিনি দুইবার নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছেন। তাঁকে নতুন করে পরীক্ষার কিছু নেই।

পুরাতন আদালত ভবনের সামনে ফুটপাতে কাপড় ব্যবসায়ী সাদেক আলী বলেন, ‘ভোট তো কাউকে দিবই। বিপদে যাকে কাছে পাব, যিনি উন্নয়ন করে দিবে তাঁকেই ভোট দেওয়া উচিত। তবে এবার যাতে আমরা ভোট দিতে পারি, সরকারের কাছে সেই দাবি জানাই।’

আসনটির দোহার উপজেলায় আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে। নবাবগঞ্জে ১৪টি ইউনিয়ন। মোট ভোটকেন্দ্র দোহারে ৭৮টি, নবাবগঞ্জে ১০৬টি। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩৬ হাজার ৬১৭। এখানে মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের লোকের বসবাস রয়েছে। বেশির ভাগ মানুষ ব্যবসায়ী ও প্রবাসী। নির্বাচনে প্রার্থীরা মূলত হিন্দু ও তাঁতি ভোটের প্রতি বেশি নজর দিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন।

জামায়াত প্রার্থী নজরুল ইসলাম সোমবার দুপুরে নবাবগঞ্জ উপজেলার কলাকোপা, আগলা, গালিমপুর, চুড়াইন ও বক্সনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পথসভা, গণসংযোগ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে দলীয় কর্মী–সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।

আসনটির ভোটার স্নাতকপড়ুয়া কনিকা আক্তার। এবারই তিনি প্রথম ভোট দেবেন। তিনি বলেন, দোহার–নবাবগঞ্জে শিক্ষার্থীদের জন্য স্নাতকত্তোর পড়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। যিনি বিজয়ী হবেন তাঁর কাছে প্রত্যাশা দোহার বা নবাবগঞ্জে মাস্টার্স কোর্স চালু করার উদ্যোগ নেবেন। নতুন প্রজম্মের চাওয়াকে পূরণ করবেন।