খুলনায় গোলাম পরওয়ার
সরকার যদি জনগণের ওপর অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায়, তবে পরিণতি শুভ হবে না
গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করে সরকারি দলের ভূমিকার প্রশ্ন তুলে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, একই প্রক্রিয়ায় গণভোট ও সংসদ নির্বাচন আয়োজন করে একটিকে বৈধ আর অন্যটিকে অবৈধ বলা হচ্ছে—যা বিবেকবিরোধী ও প্রতারণার শামিল। সংখ্যাগরিষ্ঠতার দম্ভে সরকার যদি জনগণের ওপর অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায়, তবে তার পরিণতি শুভ হবে না।
গতকাল শুক্রবার রাতে খুলনা মহানগরের শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে নগরের খালিশপুর বিআইডিসি রোডের শ্রমিক কল্যাণ ট্রাস্ট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ঈদ প্রীতিসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
অতীতের উদাহরণ টেনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কর্তৃত্ববাদী শাসকেরা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণকে দমন করতে চেয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি, তাদের দেশ ছাড়তে হয়েছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের পূর্ণ দায় সরকারের। সংকট দীর্ঘায়িত হলে এর দায়ও সরকারকেই বহন করতে হবে। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশকে আর সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবেন না, জনগণকে আবার রাজপথে নামতে বাধ্য করবেন না।
বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী কোনো বিশৃঙ্খলা বা সন্ত্রাসের রাজনীতি সমর্থন করে না। তবে অন্যায় ও মন্দ কাজের বিরুদ্ধে তারা আপসহীন থাকবে। আমরা সৎ কাজে সহযোগিতা করব, অন্যায়ের কঠোর প্রতিবাদ করব।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিপুলসংখ্যক আসন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী এখন বিরোধী দলে রয়েছে এবং শফিকুর রহমান বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করছেন, যা দেশের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। আর পাঁচ কোটি মানুষের সমর্থন পাওয়া জুলাই সনদকে উপেক্ষা করা মানে জনগণের রায় অস্বীকার করা। দ্রুত এটিকে আইনে পরিণত না করলে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়বে।
অনুষ্ঠানে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগরী সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শফিকুল আলম, খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর আমির মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি ও খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন, জামায়াতের দাকোপ-বটিয়াঘাটা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী।