অভিযুক্ত ছাত্রলীগের কর্মীরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আসাদ হক ও আরিফ জামান, রসায়ন বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের জাহিদ হাসান, ৪৭তম ব্যাচের অর্থনীতি বিভাগের জিয়াদ মির্জা, দর্শন বিভাগের মীর হাসিবুল হাসান, নৃবিজ্ঞান বিভাগের রাইহান বিন হাবিব ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মুনতাসির আহমেদ তাহরীম এবং আইন ও বিচার বিভাগের মাসুম বিল্লাহ।

তাঁরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। মারধরের শিকার ও অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা সবাই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের আবাসিক ছাত্র।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল রাত ১১টার দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলে নিজের কক্ষে ফেরেন আল আমিন। সে সময় হলের অতিথিকক্ষে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ‘গেস্টরুম’ করাচ্ছিলেন ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মী। সেখানে আল আমিনকে ডেকে নিয়ে নিজের এবং দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরিচয় দিতে বলা হয়। কিন্তু তিনি শিক্ষার্থীদের পরিচয় দিতে না পারায় তাঁকে কক্ষের দেয়ালের বর্ধিত অংশের গ্রিল ধরে পাঁচ মিনিট ঝুলে থাকতে বলা হয়। পাঁচ মিনিট শেষ হওয়ার আগেই তিনি গ্রিল থেকে নেমে গেলে তাঁকে টেবিলের নিচে মাথা দিতে বলেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। এতে অস্বীকৃতি জানান আল আমিন। একপর্যায়ে তাঁর মুঠোফোন নিয়ে নেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। এ সময় আল আমিন মুঠোফোনের লক খুলে দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে মারধর করেন অভিযুক্ত ছাত্রলীগের কর্মীরা। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে হলে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিক এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। তাঁরা আল আমিন ও অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীদের কথা শোনেন।

আল আমিনকে অতিথিকক্ষে ডেকে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও তাঁকে মারধর করেননি বলে দাবি করেন অভিযুক্ত আসাদ হক ও আরিফ জামান। তাঁরা সাংবাদিকদের বলেন, অতিথিকক্ষের কথাবার্তা রেকর্ড হচ্ছে কি না, তা জানার জন্য আল আমিনের মুঠোফোন চেক করতে চান তাঁরা।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি আকতারুজ্জামান সোহেল প্রথম আলোকে বলেন, আজ থেকে ওই কর্মীরা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকুক, তাঁরা সেটা চান না। এখন থেকে তাঁরা সাংগঠনিক কাজকর্মে অবাঞ্ছিত বলে গণ্য হবেন। বর্তমান কমিটি থাকা অবস্থায় রাজনীতির সঙ্গে তাঁরা যুক্ত থাকবেন না।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা কারও কাম্য নয়। যাঁরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাঁরা যেন সংগঠনের কার্যক্রমে যুক্ত না থাকতে পারেন, সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট থাকব।’

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ আবদুল্লাহেল কাফি বলেন, আজ বুধবার সকালে তিনি প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি শুনেছেন। বিস্তারিত জানার পর এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে হল প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত বলে বিবেচিত হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন