নড়িয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে ৯৫টি ককটেল উদ্ধার, আটক তিনজন

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চর ইউনিয়নের পোড়াগাছা এলাকা থেকে ৯৫টি ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সকালে নড়িয়া থানায়ছবি: প্রথম আলো

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চর ইউনিয়নের পোড়াগাছা ব্যাপারীকান্দি এলাকা থেকে ৯৫টি ককটেল উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। আজ সোমবার ভোরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল এ অভিযান চালায়।

এ সময় তিন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। ওই এলাকা থেকে বেশ কিছু ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

নড়িয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অখিল রঞ্জন সরকার সূত্র জানায়, পোড়াগাছা ব্যাপারীকান্দি এলাকার একটি বাড়িতে ককটেল রাখা হয়েছে—এমন তথ্য আসে পুলিশের কাছে। এরপর আজ ভোরে নড়িয়া থানার পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে ওই এলাকায় অভিযান চালায়। এলাকার পেদা মসজিদের বারান্দা ঘর, ওই গ্রামের খলিল পেদা, জিলু মাদবর ও বাচ্চু পেদার ঘর থেকে ১২টি বালতিতে রাখা ৯৫টি ককটেল উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, এ সময় সেখান থেকে কয়েকটি টেঁটা, রামদাসহ ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মেহেদী হাসান (২৫), বাচ্চু পেদা (৬০) ও রনি পেদা (১৮) নামের তিনজনকে আটক করে।

আজ ভোরে নড়িয়া থানার পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে ওই এলাকায় অভিযান চালায়
ছবি: প্রথম আলো

পুলিশ জানায়, গত বছরের আগস্টে ওই এলাকা থেকে ৬০টি ককটেল উদ্ধার করেছিল পুলিশ। ককটেলগুলো পুলিশের অ্যান্টি-টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা নিষ্ক্রিয় করেন। নড়িয়ার পোড়াগাছার পাশের গ্রাম জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নের মুলাই ব্যাপারীকান্দির একটি বাড়িতে গত ৮ জানুয়ারি ককটেল বিস্ফোরণে তিন ব্যক্তি নিহত হন। গত তিন দিনে নড়িয়ায় আরও তিনটি স্থান থেকে ২২টি ককটেল উদ্ধার করে পুলিশ।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহার মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে তৎপর আছেন। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। প্রতিটি ঘটনায় মামলা হচ্ছে, আসামি গ্রেপ্তার হচ্ছে। পোড়াগাছা এলাকা থেকে যে ককটেল ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, ওই ঘটনায় মামলা করা হবে। আর ঘটনাটি ইতিমধ্যে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সেখানে এই ককটেলগুলো কী উদ্দেশ্যে কারা রেখেছিল, তা খোঁজা হচ্ছে।