ঢাকা থেকে সড়কপথে মন্ত্রী সেতু এলাকায় আসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজা, সেতুর প্রকল্প পরিচালক শ্যামল কুমার ভট্টাচার্য, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী গোপালগঞ্জ অঞ্চলের মো. সুরুজ মিয়া ও খুলনা অঞ্চলের মো. আসলাম আলী, সেতুর প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. আশরাফুজ্জামান, নড়াইলের পুলিশ সুপার মোসা. সাদিরা খাতুন, নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফকরুল হাসান, লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুন্সী আলাউদ্দীন প্রমুখ।

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর সেতুটি ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নড়াইলবাসীর জন্য এই সেতুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। যথাসময়ে এ সেতুর কাজ শেষ হয়েছে। সেতুটি চালু হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার সংযোগ ঘটাবে। নড়াইল ছাড়াও যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, বেনাপোল ও মোংলা বন্দরের মানুষ এর সুফল পাবে।

ঘুমধুম সীমান্তে গোলাগুলি প্রসঙ্গে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা মিয়ানমারের উসকানির ব্যাপারে সংযমী আচরণ করছি। পরিষ্কার কথা, আমরা কারও সঙ্গে যুদ্ধ করব না। তবে আমাদের বিজিবি ও অন্যান্য বাহিনী প্রস্তত আছে। আমরা প্রথম আক্রমণকারী হতে চাই না। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে টালমাটাল করে তুলেছে। আমরা জাতিসংঘে জানাব।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি আদালত ফয়সালা করবে। ওটা (তত্ত্বাবধায়ক সরকার) ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। সামনের জাতীয় সংসদ নির্বাচন এই নির্বাচন কমিশনের অধীন নিরপেক্ষভাবে হবে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নির্বাচন কমিশনের অধীন থাকবে। এটা বারবার বলার পরও তারা (বিএনপি) পানি ঘোলা করছে। নির্বাচনে না এসে তাদের উপায় নেই।

প্রসঙ্গত, দেশের প্রথম ছয় লেনের কালনা সেতু উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এ অঞ্চলের মানুষের কাছে কালনা সেতু নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। ইতিমধ্যে এ সেতুর টোল হার চূড়ান্ত করা হয়েছে। হয়েছে গাড়ি চলাচলের উপযোগী।

সেতুটির পূর্ব প্রান্তে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী এবং পশ্চিম প্রান্তে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা। দৃষ্টিনন্দন এ সেতু হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম ছয় লেনের সেতু। এটি এশিয়ান হাইওয়ের অংশ। পদ্মা সেতু পার হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর প্রবেশদ্বার হবে এ সেতু।

প্রকল্পের কর্মকর্তারা জানান, এ সেতুর চারটি মূল লেনে দ্রুতগতির ও দুটি লেনে ধীরগতির যানবাহন চলাচল করবে। সেতুর দৈর্ঘ্য ৬৯০ মিটার ও প্রস্থে ২৭ দশমিক ১০ মিটার। উভয় পাশে সংযোগ সড়ক ৪ দশমিক ২৭৩ কিলোমিটার, যার প্রস্থ ৩০ দশমিক ৫০ মিটার। সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় ৯৫৯ দশমিক ৮৫ কোটি টাকা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন