রেললাইনে থাকা শিশুকে বাঁচাতে ঝাঁপ, ট্রেনে কাটা পড়ে দুজনেরই মৃত্যু
হাঁটতে হাঁটতে অসাবধানতাবশত রেললাইনে উঠে পড়ে ১০ বছর বয়সী একটি শিশু। এ সময় দ্রুতগতিতে ছুটে আসছিল ট্রেন। তা দেখতে পেয়ে শিশুটিকে বাঁচাতে রেললাইনে ঝাঁপ দেন পাশের একটি ভবনে কর্মরত এক শ্রমিক। ধাক্কা দিয়ে শিশুটিকে সরিয়ে দিলেও ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয় ওই শ্রমিকের। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রায় এক ঘণ্টা পর শিশুটিও মারা যায়।
আজ শুক্রবার বেলা পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম নগরের দুই নম্বর গেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শ্রমিকের নাম দেলোয়ার হোসেন ওরফে মিন্টু। তিনি ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার বাসিন্দা। শিশুটির নাম মো. রাহাত (১০)। সে নগরের দুই নম্বর গেট এলাকার মো. ফারুকের ছেলে। একই সময়ে আরেক শিশুকে রক্ষা করতে গিয়ে ট্রেনের নিচে পড়ে আবদুর রহমান (৩০) নামের এক ব্যক্তিও আহত হন। তাঁকে একই হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, জুমার নামাজের পর ওই শিশু অসাবধানতাবশত রেললাইনে উঠে পড়ে। এ সময় পাশের একটি ভবনে কর্মরত ইলেকট্রিশিয়ান দেলোয়ার তাকে দেখতে পান। ওই শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে তিনি লাফ দেন। এতে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম দুর্ঘটনার বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আহত দুজনের মধ্যে শিশুটিকে অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে এবং অপর ব্যক্তিকে ক্যাজুয়ালটি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল।
চমেক হাসপাতালের অর্থোপেডিক ওয়ার্ডের সহকারী রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।