মাহালীপাড়ায় মাটির নিচে জলধারক স্তর (অ্যাকুইফার) পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে খাওয়ার পানির জন্য ভীষণ সংকটে পড়েছেন পাড়ার বাসিন্দারা। এ সংকট নিরসনের অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মাহালী বাঁশ-বেত উন্নয়ন সংগঠনের সভানেত্রী নারীনেত্রী চিচিলিয়া হেমব্রম।

বরেন্দ্র অঞ্চল যুব সংগঠন ফোরামের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মাহালী বাঁশ-বেত উন্নয়ন সংগঠনের সদস্য রিনা টুডু, মনিকা টুডু, জেসতিনা টুডু, বরেন্দ্র অঞ্চল যুব সংগঠন ফোরামের সভাপতি শাইখ তাসনীম, রাজশাহী সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান, আদিবাসী নেতা সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম, বারসিকের গবেষক ও আঞ্চলিক সমন্বয়ক শহিদুল ইসলাম, ইয়ুথ অ্যাকশন ফর সোশ্যাল চেঞ্জের সভাপতি শামীউল আলীম প্রমুখ।

চিচিলিয়া হেমব্রম প্রথম আলোকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আামাদের মাহালীপাড়ায় কোনো পানি নেই। খাওয়ার পানির জন্য এক কিলোমিটার দূরে যেতে হয়। এরপরও অনেক সময় পানি পাওয়া যায় না। অন্য উৎস থেকে পানি আনতে নানা ধরনের ঝামেলা পোহাতে হয় নারীদের। এ ছাড়া কোমরে ব্যথাসহ নানা ধরনের দুর্ঘটানার শিকার হতে হয়। এরপরও পাওয়া না গেলে অনেক দূরে গিয়ে পানি কিনে আনতে হয়। কিন্তু অভাবের সংসারে পানি কিনে খাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা দিনমজুরি বা বাঁশ-বেতের কাজ করে ৩০০ টাকা আয় করি প্রতিদিন। এর মধ্যে পানি কিনে খাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’

একই পাড়ার মাহালী আদিবাসী নেত্রী রিনা টুডু বলেন, ‘স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে অনেকবার ধরনা দিয়েছি, কেউ পানির সমাধান করে দিল না আজও। প্রায় ৩০০ মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছি। তাই পানির অধিকারের জন্য আমরা তানোর থেকে কষ্ট করে রাজশাহী শহরে এসে মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি।’

বেসরকারি সংস্থা বারসিকের গবেষক ও আঞ্চলিক সমন্বয়ক শহিদুল ইসলাম বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। একসময় গ্রাম ও শহরের প্রান্তিক মানুষেরা প্রাকৃতিক উৎস (পাতকুয়া, কুয়া, পুকুর, জলাশয়, নলকূপ) থেকে পানি ব্যবহার করত। কিন্তু এসব উৎস দিন দিন দখল ও নষ্ট হওয়ায় প্রান্তিক মানুষেরা পানি পাচ্ছে না। অন্যদিকে উন্নয়নমূলক ভুল পদক্ষেপের কারণে এই অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর মারাত্মকভাবে নিচে নেমে গেছে। এ বিষয়ে জনমতামত নিয়ে ও গবেষণা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি দাবি জানান তিনি।

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে চারটি দাবি জানিয়ে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। দাবিগুলো হলো মাহালীপাড়ায় দ্রুত পর্যাপ্ত গভীর নলকূপ স্থাপন, সরকারি পুকুর-দিঘি ইজারা না দিয়ে প্রান্তিক মানুষদের ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া, গ্রামের ভেতরে বা কাছাকাছি পুকুরগুলো গ্রামবাসীর নামে বিনা শর্তে ইজারা দেওয়া এবং পুকুর-দিঘিগুলো সংস্কার করা, যাতে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার করে দৈনন্দিন কাজ ও কৃষিকাজ করা যায়।